বিশেষ প্রতিবেদন

‘ফুটপাত ও রাস্তার মালিক তারা’

রাজধানীতে ফুটপাত বা সড়কের অর্ধেক অংশ দখল করে হরহামেশেই চলে নানা প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য। যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ্য করা গেলেও ফুটপাত বা সড়কের একাংশ দখল যেন অনেকটা বৈধ হয়ে গেছে। বাংলামোটর একটি ব্যস্ততম এলাকা। এখান থেকে খুব সহজে শাহবাগ যাওয়ার জন্য একটি আলাদা লেন তৈরি করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য লেনটি দিয়ে আর গাড়ি চলাচল করতে পারে না। রাস্তার ধারের মোটরপার্সের দোকানগুলো তাদের প্রয়োজনে সেই লেন ব্যবহার করছে।সরেজমিনে দেখা যায়, লেনটি দখল করে পাশের ১২-১৫টি দোকানের মোটরসাইকেল মেরামত করা হচ্ছে। লেনের দুই পাশে সারিবদ্ধ মোটরসাইকেল। মাঝ দিয়ে চলাচল করছে প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা। এছাড়া বড় গাড়িগুলো লেনটি দিয়ে ঢুকতে পারে না, কেউ কিছু বলতেই তেড়ে আসেন ম্যাকানিকরা।মঙ্গলবার (২৪ মে) ঘটনাস্থলে দেখা যায়, লেনটি থেকে একটি মোটরসাইকেলকে সরাতে হর্ণ দিয়েছে গাড়ি চালক। হর্ণ বাজানোর কারণে উল্টো তার উপরই ক্ষেপে যান এক মোটর শ্রমিক।জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে এই সড়কে শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমুর গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা আন্দোলনের হুমকি দেয়।এ সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী মোহাম্মদ ইরাদ খান নামে একজন অসন্তোষ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইস্কাটন থেকে শাহবাগগামী গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতো। বাম দিকের লেনটি করে খুব ভালো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে দেখছি তারা (দোকান মালিকরা) ইচ্ছেমত লেনটির দুপাশে মোটরসাইকেল মেরামত করছে। কথায় আছে, চোরের মায়ের বড় গলা।’তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি অবৈধভাবে মোটরসাইকেল পার্ক করার বিষয়ে আমি প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো আমার দিকে তারা চোখ রাঙায়। অবৈধভাবে গাড়ি রাখতে কিভাবে এত সাহস পায় তারা? প্রশাসন কি কিছুই দেখে না? তাদের আচরণ দেখে মনে হয়, ফুটপাথ ও এই রাস্তার মালিক তারা।’সড়কের পাশাপাশি ফুটপাথ দখল করেও নিয়মিত কাজ করে তারা। পুরো রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতগুলো প্রধানত মেরামতের অস্থায়ী গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি মোটর পার্টসের দোকানের সামনে থেকে মূল রাস্তার অনেকটাজুড়েই চলছে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ।ঢাকা মোটর পার্টস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শাহিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এটি একটি ভিআইপি রোড, দুজন মন্ত্রী এই সড়কের পাশেই থাকেন। দোকানদাররা কোনভাবেই ফুটপাত বন্ধ করে ও রাস্তায় কাজ করতে পারে না। তাদের বহুবার লিখিত ও মৌখিক নোটিশ দেয়া হয়েছে। আবারো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) খান মোহাম্মদ রেজওয়ান জাগো নিউজকে বলেন, তাদের বার বার সরে যেতে বলা হয়। আমি এখন আবারো বলে দিচ্ছি।রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি, একাধিকবার তাদের মোটরসাইকেল না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মালিক সমিতির ও মোটর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। এই অপরাধে কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তারা মুচলেকা দিয়ে ফিরে গিয়ে আবার একই অপরাধ করে।এআর/আরএস/এবিএস