দেশজুড়ে

লালপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু : আটক ২

নাটোরের লালপুরে পলি খাতুন (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে পারিবারিক কবরস্থানে গোপনে তাকে দাফন করা হয়। নিহত স্কুলছাত্রী উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে এবং রামকৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আটকরা হলো, মিলন হোসেন (২৫) এবং আলমগীর হোসেন (২৭)। লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদার জানান, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল পলি খাতুন। বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে পলি খাতুনকে বেধড়ক মারপিট করে মিলন হোসেন। মারপিটের এক পর্যায়ে মৃত্যু হয় পলি খাতুনের। পরে পলি খাতুন গোলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করতে থাকে ভাই মিলন হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন। এমনকি পুলিশকে কিছু না জানিয়ে শুক্রবার ভোরে সবার অজান্তে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় পলি খাতুনের। তিনি আরো জানান, পলি খাতুনের মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তার মৃত্যুর পিছনে ভাই মিলন হোসেন এবং আলমগীর হোসেন জড়িত কিনা সে কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুপুরে দুই ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিত করে বলা যাবে পলি খাতুনের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা।ওসি আরো জানান, পলি খাতুনের মৃত্যু নিয়ে প্রাথমিকভাবে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে।এদিকে স্থানীয়রা জানান, পলি খাতুনের ভাই মিলন হোসেন পারিবারিক বিরোধের কারণে তার স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে দুই মাস আগে তালাক দেয়। কিন্তু সম্প্রতি পলি খাতুন তালাকপ্রাপ্ত ওই স্ত্রীর বাড়িতে বেড়াতে গেলে এ নিয়ে ক্ষোভে শুক্রবার রাতে পলি খাতুনকে বেধড়ক মারপিট করে মিলন হোসেন। অতিরিক্ত আঘাতজনিত কারণে পলি খাতুনের মৃত্যু হয়। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালীরা উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে স্থানীয় বিলমাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, মোবাইল ফোনে মিলন হোসেন তাকে বলেন যে তার বোন পারিবারিক কলহের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সেজন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে মরদেহ দাফনের মৌখিক অনুমতি দিয়েছি, এর বেশি কিছু আমি জানিনা।রেজাউল করিম রেজা/এআরএ/এবিএস