নাটোরের বড়াইগ্রামে স্ত্রীর লাশ ভেবে দাফনের সময় জানা গেল লাশটি তার স্ত্রীর নয় অজ্ঞাত কোনো নারীর। শুক্রবার রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার কাটাশকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কাটাশকোল গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার বাগাতিপাড়া উপজেলার বিলগোপালহাটি এলাকা থেকে মস্তকবিহীন এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটির কোনো ওয়ারিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার কাটাশকোল গ্রামের নজরুল দাবি করেন, লাশটি তার স্ত্রী আশরাফুন বেগমের। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে শুক্রবার বিকেলে তাকে লাশ দেয়া হয়। তিনি লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। রাতে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হয়।অপরদিকে, আশরাফুনের মেয়ে তার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে রাতেই ঢাকা থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাসে আসার পথে হঠাৎ মা আশরাফুনের ফোন পান মেয়ে। মেয়ের কাছে বিস্তারিত জেনে আশরাফুন তার স্বামী ও স্বজনদের কাছে ফোন করেন। পরে সবাই নিশ্চিত হন ওই মস্তকবিহীন লাশটি আশরাফুনের নয়। পরে শনিবার সকালে আশরাফুন বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর লাশটি পুনরায় নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।নজরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী আশরাফুন বেগম পাঁচদিন আগে তার সঙ্গে রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ অজ্ঞাত এক নারীর মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের খবর পান তারা। এরপর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশটি তার স্ত্রীর বলে মনে হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে আবেদন করে লাশটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনা থাকুন জানান, লাশটি দাফন করার জন্য কবর খনন করা হয়েছিল। আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে কাটাশকোল গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। তবে আশরাফুনের খোঁজ পাওয়ায় সে মেঘ কেটে গেছে। এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি লাশের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে বাগাতিপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, এখন মস্তকবিহীন লাশটি দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।রেজাউল করিম রেজা/এসএস/এমএস