দেশজুড়ে

পাবনায় কৃষি খামারে বিষক্রিয়ায় ২১ শ্রমিক অসুস্থ

পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া সরকারি কৃষি খামারে ধান বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় বিষক্রিয়ায় ২১ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জনকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অসুস্থ শ্রমিকরা হলেন, ফয়েজ উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারেক, মকবুল হোসেন, আব্দুল গফুর, ইসলাম প্রামানিক, হাশেম আলী, নুরুল ইসলাম, কিয়াম আলী, মিন্টু হোসেন, আলম সরদার, হাবিবুর রহমান, মজনু হোসেন। তাদের মধ্যে আব্দুস সাত্তার ও মজনু হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎকরা। অন্যদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।শ্রমিকরা জানান, সাড়ে ১২টার দিকে ধান বীজ প্রক্রিয়াজাতের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। ধান বীজকে পোঁকার হাত থেকে রক্ষায় প্রক্রিয়াজাত করতে পোকানাশক ওষুধ স্প্রে করা হয়। প্রচণ্ড গরমে সেই ওষুধের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অন্তত ২১ জন শ্রমিক। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আরাফাত হাসান জানান, শ্রমিকরা অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইট ইনহেলেশন পয়জনিং এ (বিষক্রিয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা) আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।বিএডিসি পাবনার যুগ্ম পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, দুপুরে খামারে কাজ করার সময় প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তেমন কিছু না। তাদের চিকিৎসায় সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।এদিকে, বিএডিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধান বীজ প্রক্রিয়াজাত করার সময় পোঁকা দমনে ফসটাকশন ট্যাবলেট (স্থানীয় ভাষায় গ্যাস ট্যাবলেট বলা হয়) ব্যবহার করা হয়। ধানের মধ্যে এই গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে ট্রিপল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। নতুন ধান ওঠায় কাজের চাপের কারণে সম্ভবত ওই ট্রিপল ছিদ্র হয়ে যাওয়ার বিষয়টি টের পায়নি শ্রমিকরা। সোমবার দুপুরে কক্ষে প্রবেশ করা মাত্র বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন তারা। একে জামান/এমএএস/এবিএস