পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর হওয়া সত্ত্বেও ভোমরা বন্দরে সকল পণ্যের আমদানির সুযোগ না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন সরকার। তাছাড়া কিপিং লাইসেন্স না থাকায় ওয়ার হাউজ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না ব্যাবসায়ীদের।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে ১৭ বছর পর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গত বছরের ১৮ মে স্থলবন্দর ঘোষনা করেন। পরে ১৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পূর্ণ ২টি ওয়ার হাউজ, ১০০ মে. টন ধারণক্ষমতা সম্পূর্ণ ওয়েব এক্সেল, প্রশাসনিক ভবন ও ৩টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কিপিং লাইসেন্স না পাওয়ার কারণে ওয়ারহাউস ব্যবহারের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।ভোমরা স্থল বন্দরের ব্যাবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওয়ার হাউজ নেই। কাঁচামাল রাখতে পারি না। আব্দুর রশিদ জানান, বন্দর দিয়ে মাত্র ২২টি পণ্য আমদানি হয়। অন্য বন্দর দিয়ে অনেক বেশি পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। আমরা বেশি পণ্য আমদানি করতে পারলে সরকারের রাজস্ব আয় আরো বাড়বে। সব ধরনের পণ্য আমদানির দাবি জানিয়ে ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জাগো নিউজকে বলেন, ভৌগোলিক কারণে কলকাতা থেকে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭৫ কিলোমিটার। যেহেতু দূরত্ব কম সেহেতু এই বন্দর দিয়ে সব ধরনের পন্য আমদানি করলে একদিকে ব্যবসায়ীদের খরচও কম হবে অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। তাছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে বন্দরটি বাংলাদেশের সর্বোত্তম বন্দরে পরিণত হবে।রাজস্ব আদায় বেড়েছে জানিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জাগো নিউজকে জানান, ভোমরা শুল্ককর স্টেশনে বিগত অর্থ বৎসরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। আদায় হয়েছিল ৩৮৩ কোটি ১০ লাখ এক হাজার। বর্তমান বৎসরে লক্ষ্যমাত্রা ৫১০ কোটি ৬২ লাখ ৫৮ হাজার। আদায় হয়েছে ৫৫৬ কোটি ৯৬ লাখ এক হাজার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ এক হাজার টাকা বেশি আদায় হয়েছে। আকরামুল ইসলাম/এসএস/পিআর