টেন্ডার ছাড়াই বাসাইল উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ভবন নিমার্ণের অভিযোগ উঠেছে। মৌখিক নির্দেশে ভবন নির্মাণ করায় দেউলিয়া হতে বসেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, এ ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ঘটনার মূল হোতা নির্বাহী প্রকৌশলী মনির হোসেন মোল্লা ঢাকা অফিসে বদলি হয়ে গেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো. আজাহার আলী জানান, গত ৩০ বছর যাবত তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে ঠিকাদারি ব্যবসা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন মোল্ল্যার মৌখিক আদেশ ও ৩৮ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ে দরপত্র গ্রহণ করা হবে আশ্বাসে তিনি বাসাইল উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য কার্যালয় ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এর ফলে তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহেদুজ্জামানের সহায়তায় টেন্ডারের কাজটি বুঝে নেন ও মালামাল মজুদ করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ভবন নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটি নিচু থাকা সত্ত্বেও তিনি এর বেস ও ১৯টি কলাম ঢালাইলের কাজ শেষ করেন। এর পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জি.এল লেভেলে একটি ছাদ ঢালাই শেষ করেন। এমতাবস্থায় কাজটি চলমান রাখার প্রয়োজনে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন মোল্ল্যা কোনো হিসাবরক্ষক ও রেকর্ডপত্র ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৫২২ টাকার চেক প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের দ্বিতীয় ছাদ ঢালাই শেষ করে। পর্যায়ক্রমে দেয়াল গাঁথুনি, প্লাস্টার, দরজা, জানালা, ইলেকট্রিক ও স্যানেটারি কাজ শেষ করেন। ভবনের ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি টেন্ডার আহ্বান করেন না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রড, ইট, বালি, সিমেন্ট সরবরাহকারী, রডমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রিদের বিল পরিশোধের চাপে পড়েন। এ সময় ভবন নির্মাণ কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিল পরিশোধের জন্য বার বার অনুরোধ করায় নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ উদ্যোগে বাকি কাজ শেষ করেন। ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করেই বাসাইল উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ভবনে কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দেন ওই নির্বাহী প্রকৌশলী। এ আদেশের পরই টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন মোল্ল্যা ঢাকায় বদলি হন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা বিল পরিশোধ না করে বর্তমানে আদেশপ্রাপ্ত বাসাইল উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য বিভাগ ভবন ব্যবহার শুরু করেছে। টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন মোল্ল্যার অপকৌশল আর টেন্ডার ব্যতীত এ ভবন নির্মাণে দেউলিয়া হতে বসেছে ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত প্রোপ্রাইটর মো. আজাহার আলী এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।বাসাইল উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, বাসাইল উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নবনির্মিত ভবনটির কাজ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো. আজাহার আলী। এ ভবন নির্মাণে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তবে এর টেন্ডার কেন দেয়া হয়নি এ বিষয়টি তিনি জানেন না। টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন মোল্ল্যার আদেশে তিনি ভবন নির্মাণ কাজের তদারকি করেছেন বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন মোল্ল্যার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গোপনীয়ভাবে বাসাইল উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নবনির্মিত ভবনটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে যে ঠিকাদার ভবনটি নির্মাণ করেছে তার নামে কোনো কার্যাদেশ ছিল না। তিনি মৌখিক নির্দেশে কাজটি করেছেন। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. আলী আজগর জানান, বিগত ২ মাস যাবত সে টাঙ্গাইলে যোগদান করেছেন। এ বিষয় নিয়ে ঠিকাদারও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ ভবনটি নির্মাণ হলেও টেন্ডার সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ বা কাগজপত্র অফিসে জমা নেই। তবু যেহেতু ভবনটি দৃশ্যমান এ ব্যাপারে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করবেন । এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া সরকারি কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ঠিক না। শুধু দুই লাখ টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড টেন্ডার ব্যতীত করার বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের কোনো প্রতারণা করে থাকে তবে তাকে সে ব্যাপারে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে। আরিফ উর রহমান টগর/এসএস/পিআর