বগুড়ার সোনাতলায় আসামি ধরতে গিয়ে ডাকাত ভেবে গ্রামবাসী পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই ও এক নারী কনস্টেবলসহ তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম তেকানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম তেকানি গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়েকে একই গ্রামের সৈয়দ জামানের ছেলে সাবু মিয়া গত ২ জুন অপহরণ করে। এ ঘটনায় অপহৃতের মা বাদী হয়ে বুধবার (৮ জুন) সোনাতলা থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন। এদিকে, শনিবার ভোরে থানা পুলিশ অপহৃত স্কুলছাত্রী শাম্মীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পশ্চিম তেকানি গ্রামে গিয়ে সাইফুল ইসলাম, রুবেল, লেবুর মিয়ার বাড়ি তল্লাশি করে। মাসুদের বাড়িতে গেলে ওই বাড়ির গৃহকত্র্রী ফেন্সি বেগম (৩৫) ও তার ছেলে এবং ভাগ্নে পুলিশকে ডাকাত মনে করে তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ মারমুখী অবস্থানে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। এতে পুলিশের এসআই আমিনুল ইসলাম (৩৮) ও নারী কনস্টেবল হাসনা নুর (২৪) আহত হন। এ সময় পুলিশের মারপিটে ওই বাড়ির গৃহকত্রী ফেন্সি বেগম (৩৫) আহত হন। দুই পক্ষের মধ্যে মারপিট ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে ওই বাড়ির লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করে। এতে আশপাশের বাড়ির লোকজনসহ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসে। এ ব্যাপারে আহত গৃহবধূ ফেন্সি বেগম জানান, একদল লোক ভোরে তাদের বাড়ি তল্লাশি করতে এসে ঘুমন্ত মানুষকে তুলে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেন। সোনাতলা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনার হোসেন জানান, অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারের জন্য ওই গ্রামের ২/৩টি বাড়ি তল্লাশি করা হয়। পরে মাসুদের বাড়িতে গেলে ওই বাড়ির গৃহকত্রী ফেন্সি বেগম পুলিশকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ অপহৃত স্কুলছাত্রী সম্পর্কে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে। এ সময় নারী পুলিশ তাকে নিষেধ করলে তিনি পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে এবং ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার দেয়। সোনাতলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামি ধরতে গিয়ে গ্রামবাসীর পুলিশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়। পরে তা সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। লিমন বাসার/এসএস/এবিএস