দেশজুড়ে

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে হাড়ভাঙা রোগীদের ভোগান্তি

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে মা-ভাইয়ের গলা জড়িয়ে কান্নাকাটি করছেন এক মধ্যবয়সী নারী। কাছে গিয়ে জানতে পারলাম হাসপাতালের অর্থ সার্জারি বিভাগের ডাক্তার প্রবীর কুমার দাশ পরবর্তী চিকিৎসার জন্য এনআইপিওআর ঢাকাতে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়ে রোগীর ছাড়পত্র দিয়েছেন। অসহায় গরীব মানুষ ঢাকা শহর চিনেন না। এতো টাকা কোথায় পাবেন, কিভাবে সেখানে ভর্তি হবেন। এসব ভেবেই মানুসিক বিপর্যস্ত তালা উপজেলার সুজন শাহ গ্রামের মঞ্জুয়ারার পরিবার। মঞ্জুয়ারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবেন এমনটাই আশা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তারা। অবশেষে ডাক্তার জানিয়েছেন সাতক্ষীরায় চিকিৎসা সম্ভব নয়।কান্না জড়িত কণ্ঠে মঞ্জুয়ারার মা রেখা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ২৮ মে বাড়িতে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে মঞ্জুয়ারার ডান হাত ভেঙে যায়। সাতক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার প্রবীর বিশ্বাস হাত ব্যান্ডেজ করে মঞ্জুয়ারাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী ১০ দিন পর আবার নিয়ে আসার কথা বলেন। তার কথা মতো শনিবার হাসপাতালে আনা হলে মঞ্জুয়ারাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রোববার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা বলেছেন।তিনি আরও বলেন, ডাক্তার আগে বলে দিলেই পারতো অন্য ডাক্তার দেখাতাম। ঘটনার ১২দিন পর এখন বলছে ঢাকায় নিয়ে যাও। আমরা গরীব মানুষ। এখন কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। মঞ্জুয়ারা বলেন, আমি ডাক্তারকে বলেছি আমার হাতের কবজির এখানে ব্যথা করে। এখানে ভেঙে গেছে। ডাক্তার শুনেননি। আমাকে কবজির উপরে ব্যান্ডেজ করেছে। এক স্থানে ভেঙেছে ব্যান্ডেজ করেছে অন্যস্থানে।এদিকে, হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেলো ডাক্তার প্রবীর কুমার দাশ হাসপাতালে তার নির্দিষ্ট কক্ষে নেই। কক্ষটি তালাবদ্ধ। ফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সব চিকিৎসা হাসপাতালেই হবে এমন কোনো কথা নেই। এজন্য তাকে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।পার্শ্ববর্তী বেসরকারি ডক্টরস ল্যাব হাসপাতালে থাকা ডাক্তার প্রবীর আরও বলেন, আমি এখন পার্শ্ববর্তী ডক্টরস ল্যাবে রোগী দেখছি। এখানে আসেন বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবো। এতোক্ষণ পর্যন্ত কেউ হাসপাতালে থাকে?জানা গেছে, এই ডাক্তারের পাটকেলঘাটা থানা সদরে ডক্টরস ক্লিনিক নামের একটি ক্লিনিকও রয়েছে।অন্যদিকে, একই অবস্থা তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামের বিমল দাশের ছেলে দিপংকর কুমার দাশের। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। ঠিক মতো ব্যান্ডেজ করতে পারেনি। ফলে হাত বেঁকে গিয়েছিল, সোজা করতে পারতাম না। পরবর্তীতে দেড় মাস আগে যশোর পঙ্গু প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে হাতের অপারেশন করিয়েছি। এখনও সম্পূর্ণ ভালো হয়নি।এসব বিষয়ে হাসপাতালের সিভিল সার্জন উৎপল কুমার দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ছুটিতে বাইরে থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এসএস/আরআইপি