ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে কষ্টার্জিত শান্তি রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসে ‘যৌথ স্মৃতি ও সমকালীন মিশন: বিশ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনের জনগণ বিশ্বব্যাপী মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। এটি ছিল অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের, অন্ধকারের ওপর আলো এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির ওপর প্রগতির বিজয়। এশিয়ার প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে চীন বিশ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ে বিশাল অবদান রেখেছে। ইতিহাসকে মনে রাখা, শহীদদের সম্মান করা, অর্জিত শান্তি রক্ষা করা এবং মানবতার সাধারণ মূল্যবোধ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।
সেমিনারে বক্তারা চীনের মহান ত্যাগ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে অবদানের প্রশংসা করেন এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের ওপর জোর দেন।
এ সময় সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ইতিহাসের সঠিক বোঝাপড়া ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে হবে।
আরও পড়ুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেন ফ্যাসিবাদ নিয়ে এত আলোচনা? দলগুলোর মাঝে দূরত্ব তৈরি হলে ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হবে: তারেক রহমানসাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বলেন, এই সেমিনার ইতিহাস বোঝাপড়া বাড়ানো এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চীনা এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশনের (সিইএবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হান কুন বলেন, শান্তি হল উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো শান্তির রক্ষক ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে।
বিদেশে চীনা সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাও শিবো বলেন, প্রাচীনকাল থেকে বিদেশে অবস্থানকারী চীনা জনগণ ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধকে সমর্থন করছে। বাংলাদেশে থাকা চীনের মানুষ দেশপ্রেম বজায় রেখে উভয় দেশর বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর অলটারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মো. শাহ আলম, বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, মিডিয়া এবং বাংলাদেশে চীনা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা, ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি, বহুপাক্ষিকতা ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে চীনা সেনাবাহিনীর সেবার ওপর সংক্ষিপ্ত ভিডিও ‘দ্য গার্ডিয়ানস’ পরিবেশিত হয়।
জেপিআই/ইএ/জিকেএস