পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে নিচু এলাকাগুলো থেকে নতুন করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর এক্স প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছে, দেশজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত আছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বলেছে যে, সোমবার প্রবল বাতাসসহ ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চেনাব, শতদ্রু এবং রাভি নদীর কাছাকাছি এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাঞ্জাবের মুলতান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই।
তিনি বলেন, আজ ভোরেই আমরা খবর পেয়েছি যে মুলতান থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জালালপুর পিরওয়ালাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ আটকা পড়েছে। পানি তাদের গ্রামগুলো ভাসিয়ে দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
হায়দার আরও বলেন, এসব মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নৌকা নেই। হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হলেও আবহাওয়া ভালো নয়।
বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় হায়দার বলেন, এই পরিস্থিতি একটি বিরাট বিপর্যয়। এতে বহু গ্রাম এবং বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ায় ফসলের ক্ষতির কারণে দেশটিকে এখন ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
শতদ্রু এবং চেনাব নদীর মাঝখানে অবস্থিত মুলতানে বন্যার পানি অন্তত তিনটি বাঁধ ভেঙে দিয়েছে, যার ফলে কয়েক ডজন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
জালালপুর পিরওয়ালা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে বন্যার পানিতে বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং ফসল সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
গত শনিবার মুলতানের কাছে একটি উদ্ধারকারী নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নৌকাটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিল।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম