বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। এমন অভিযোগ করার কারণে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী তানিয়া খান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সোহেল নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার টেনে আসছিলাম। কিন্তু গতকাল সোমবার বিকেলে পুনরায় মারধরের শিকার হয়ে রাতেই মামলা করি।সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় তানিয়া খানকে এলোপাতাড়ি রড দিয়ে আঘাত আর লাথি-ঘুষি মারেন মারুফ কামাল। পরে তিনি রক্তাক্ত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার মাথায় ১৪টি সেলাই দেয়া হয়। এরপর রাতেই তানিয়া খান মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে মারুফ কামালের বিরুদ্ধে ৩২৩/৩২৫/৩০৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ওয়াহেদুল ইসলাম এসব তথ্য জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধারা অনুযায়ী হত্যার চেষ্টা আইনে মামলাটি (মামলা নং ৩২) তদন্ত শুরু হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক জাহান। তদন্তানুযায়ী এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, মামলার এজাহারে মারুফ কামালের বিরুদ্ধে ‘একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক’ করার অভিযোগ এনেছেন বাদী তানিয়া। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিবাদ করলেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বিভিন্ন রকম ‘হুমকি’ দেয়া হয়। সোমবার বিকেলে মোহাম্মপুরের বাসায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারুফ কামাল মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তানিয়া।তিনি বলেন, ‘সে উত্তেজিত হইয়া আমাকে চুলের মুঠি ধরিয়া এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে।’ মামলায় আরো উল্লেখ করে তানিয়া খান বলেন, তার চিৎকার শুনে বাসার কেয়ারটেকার এসে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করেন। রডের আঘাতের কারণে মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন সহ্য করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন তিনি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারেক জামান জাগো নিউজকে বলেন, বাদী হত্যার চেষ্টা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত চলছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে মারুফ কামাল খান সোহেলকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।জেইউ/জেএইচ/এবিএস