দেশজুড়ে

কোচিং বিরোধী অভিযান : পালালেন শিক্ষকেরা

কোচিং বিরোধী অভিযান টের পেয়ে বাগেরহাটে কোচিং সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে পালালেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর আকস্মিকভাবে জেলার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অভিযান চালালে এই চিত্র দেখতে পান কর্মকর্তারা।   বাগেরহাটের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষক শহরের দশানী, সম্মিলন স্কুলের মোড়, পুরনো পুলিশ লাইন, বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, আমলাপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কোচিং সেন্টার গড়ে তুলে শিক্ষাবাণিজ্য চালিয়ে আসছেন।   এসব কোচিং সেন্টারের পরিচালকরা প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।   বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অরুণ কুমার গোস্বামী, সেলিম, মহসিন আলী, কবীর হোসেন আকন, মোহম্মদ আলী, উত্তম কুমার দাস, দেবাশীষ দাস, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আঞ্জুমান আরা, জুয়েল এবং যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোচিংবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিভাবকরা বলেন, শহরের দুটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকরা কোচিংবাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে তারা ঠিক মতো ক্লাস নেন না। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে ছেলে মেয়েদের কোচিংয়ে পড়াচ্ছি। কোচিংবিরোধী এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে অভিভাবকরা তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।   বাগেরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, আমরা বাধ্য হয়ে কোচিং সেন্টারে পড়ি। স্যাররা ক্লাসে ঠিক মতো পড়ালে আর কোচিং সেন্টারে পড়ার প্রয়োজন হয় না। কোচিং সেন্টার বন্ধের দাবি জানান ওই শিক্ষার্থী।   অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষাবাণিজ্য বন্ধের জন্য আমরা কোচিং সেন্টারগুলোতে অভিযান শুরু করেছি। অভিযান টের পেয়ে কয়েকজন শিক্ষক তাদের কোচিং সেন্টার রেখে পালিয়ে যান। পর্যায়ক্রমে অন্য উপজেলাগুলোয়ও কোচিংবাণিজ্যবিরোধী অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।   মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর খুলনার সহকারী পরিচালক হেদায়েত হোসেন, বাগেরহাট শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক ফয়সাল হাবিব, বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আকরাম হোসেন, যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অজয় চক্রবর্ত্তী প্রমুখ এ অভিযানে অংশ নেন।শওকত আলী বাবু/এআরএ/পিআর