সাগরের উপকূল অঞ্চলের অন্যতম এবং পিরোজপুর জেলার প্রাচীন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে সু-পরিচিত পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর অবতরণ কেন্দ্রের প্রকল্প প্রস্তাবটি ফাইলবন্দী থাকায় আলোর মুখ আর দেখছেনা। প্রায় দু’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মৎস্য বন্দরের সঙ্গে জেলেবাসীসহ বন্দর সংলগ্ন অন্তত আরও ৮/১০টি গ্রামের জেলে সম্প্রদায় এ পেশার সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। অত্র বন্দরের ১১টি বরফ কলে হিমায়িত মৎস্য সংরক্ষণসহ বিপণন ও রফতানি কাজেও জেলেরা নানাভাবে সম্পৃক্ত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭২ সালের আগ থেকেই সাগরের আহরিত মাছ নিয়ে এ অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায় পাড়েরহাট বন্দরে বিকিকিনির জন্য ইঞ্জিন ট্রলার নিয়ে আসত। মূলত তখন থেকেই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পাড়েরহাট বন্দর খ্যাতি লাভ করতে থাকে। কিন্তু বন্দরবাসীদের আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং জেলেদের পূজিঁর অভাবে সাগরের রুপালী ফসল আহরণে প্রচণ্ড আর্থিক দৈনতার সম্মুখীন হতে হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বন্দরবাসী ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা পাড়েরহাট বন্দরকে একটি আধুনিক ও যুগোপযুগিকরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু গত জোট সরকারের সময় প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভাব এবং অদৃশ্য কারণে ঐতিহ্যবাহী এ বন্দরের উন্নতি তো হয়নি বরং সুনাম ও খ্যাতি ক্রমশ লোপ পাচ্ছে। আরও জানা যায়, এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং তৎপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা (পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর) পরিদর্শনে আসেন এবং ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প প্রাক্কলন তৈরি করেন বলে জানা যায়। মৎস্য মন্ত্রনালয়ের চাহিদাপত্র অনুযায়ী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় এক যুগেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। বাদূরা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক নাছির সাংবাদিকরে জানান, অত্র জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সমৃদ্ধিলাভ করলেও দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মৎস্য বন্দর তথা এলাকার জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় কোনো সংসদ সদস্য বা কোনো সরকারই ভূমিকা না রাখায় দিনদিন বন্দরের গুরুত্ব ও সুনাম হারিয়ে যাচ্ছে।কঁচা নদের তীরে এবং প্রকৃতির অপার লীলাভূমি নৈশর্গীক দৃশ্য সম্বলিত পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরকে রক্ষার জন্য যদি এখনই কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে একদিকে যেমন সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে, তেমনি বঞ্চিত হবে এলাকার জেলে সম্প্রদায় তথা তাদের কল্পিত আধুনিক মৎস্য বন্দরের দীর্ঘদিনের দাবি।এফএ/পিআর