দেশজুড়ে

ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের

খোলা আকাশের নিচে তাবুর মধ্যে বসবাস এসব মানুষের। অভাব-অনটন আর দূর্ভোগই যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে বাঁধের উপর বসবাস করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার। প্রবল জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ভেঙে এখান থেকে ওখানে। এভাবেই ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটে তাদের। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই বেড়ি বাঁধে ভাঙন ধরেছে। আর এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেলালিপনাকেই দায়ী করছে দূর্দশাগ্রস্ত এসব মানুষ। সবকিছু জেনেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।সরেজমিনে দেখা যায়, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী গ্রাস করেছে হাজারো মানুষের বসতভিটা, সহায় সম্বল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান। প্রলয়ংকারী আইলার পর থেকেই বাঁধের উপর বসবাস পাঁচ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের। নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্যানিটেশন ব্যাবস্থা। যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়তে পারে এসব মানুষ। এবার বাঁধ ভেঙে গেলে এসব মানুষের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না। আশাশুনির শ্রীপুর কুড়িকাউনিয়া গ্রামের ওমর আলী সরদার জাগো নিউজকে জানান, এই বাঁধ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে চলে যেতে পারে। এই যে আছি এরো কোনো গ্যারান্টি নেই। রুইয়ারবিল এলাকার মশারফ হোসেন বলেন, বাঁধটা অনেক দূরে ছিল ভাঙতে ভাঙতে এতদূর আইছে। কিছুদিন আগেও ভেঙে গেলে আমরা এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সংস্কার করে টিকিয়ে রেখেছি। বাঁধের এবার কোনো ব্যবস্থা না করলে আমরা ডুবে মারা যাব। দুর্যোগের সময় আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। এলাকায় রাস্তাঘাট নেই, খুব দূর্ভোগে আছি ভাই। শুভদ্রকাটি এলাকার অন্তঃসত্বা আম্বিয়া খাতুন জানান, আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা নেই। কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্যবস্থা নেই। আমি চিকিৎসাসেবা নিতে পারছি না। একটু বিশুদ্ধ খাবার পানিও নেই। আল্লাহর উপর ভরসা করে বেঁচে আছি।আম্বিয়ার মা বলেন, এখান থেকে আশাশুনি হাসপাতাল ৩৫ কিলোমিটার দূরে আর সাতক্ষীরা হাসপাতাল ৭৫ কিলোমিটার দূরে। কয়েকমাস পর মেয়ের প্রথম বাচ্ছা হবে কিভাবে কী করবো বুঝতে পারছি না। প্রতাপনগর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান বলেন, এলাকায় কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় বাঁধের উপর থাকা কয়েক হাজার মানুষের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারে না।এ বিষয়ে আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩০টা পয়েন্টের বেড়ি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিপূর্বে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। এসব বিষয়ে নিজের পদ্ধতিগত জটিলতার কথা তুলে ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড আশাশুনির উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার জন্য আমরা বরাদ্ধ চেয়ে বোর্ডে নোটশুট পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি একটি বরাদ্ধ পেয়েছি। ইমারজেন্সি কোনো ফান্ড বা জনবল আমাদের থাকে না। জনবল ও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে বাঁধ সংস্কার করতে আমাদের কিছুটা সময় লাগছে। আকরামুল ইসলাম/এফএ/এবিএস