শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু শামা কবীরকে গার্মেন্টস কর্মী আলম হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাতে তাকে শ্রীবরদীর ভায়াডাঙ্গা বাজার থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়ারিশ জানান, ঝিনাইগাতীর বিষ্ণুপুর এলাকার গার্মেন্টস কর্মী আলম মিয়া (২১) হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট শ্রীবরদীর রানীশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা কবীরসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে আদালতে ওই হত্যা মামলাটি দায়ের হয়। মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত বছরের ১৩ আগস্ট ঝিনাইগাতী উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আলম মিয়া শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা দক্ষিণ পাড়ায় তার নানা রাজা মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে পাতিল চুরির অভিযোগ তুলে এলাকার কয়েকজন তাকে আটক করে। পরে রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে গ্রাম্য সালিশে চেয়ারম্যান আবু শামা কবীর পাতিল চুরির অপরাধে আলমকে দোষী সাব্যস্ত করে তার ওপর নিজেই বেত্রাঘাত করেন। আলমকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার কথা বলে আটকে রাখা হয়। পরদিন ১৪ আগস্ট ভোরে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়ক থেকে তারমরদেহ উদ্ধার করে ফুলপুর থানা পুলিশ। এ সংবাদ পেয়ে নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা ফুলপুর থানা থেকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২৩ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা কবীরসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে নিহত আলমের বাবা বাচ্চু মিয়া আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যানের বেত্রাঘাতে আলমের মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে নিহতের মরদেহ রাস্তায় ফেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা কবীর শুরু থেকেই ঘটনাটি অস্বীকার করে আসছিলেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। সালিশের ঘটনাটি স্বীকার করলেও তিনি জানান, ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি।হাকিম বাবুল/এসএস/পিআর