ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে আজ আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করছেন। উপস্থাপিত যুক্তিতর্ক বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় পঞ্চম দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও চরম দণ্ড কামনা করেন। এরপর গতকাল সোমবার প্রথমদিন আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে।
আরও পড়ুনশাপলা চত্বরে গণহত্যা হয়নি, হয়ে থাকলেও শেখ হাসিনা জানতেন নাশেখ হাসিনা খালাস পাবেন, প্রত্যাশা আইনজীবীর
এর আগে ১২ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় প্রথম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। পরে ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবরসহ পর পর চারদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, রাষ্ট্র ও আসামি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে চলে যাবে।
ঐতিহাসিক এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের বাবাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া ‘স্টার উইটনেস বা তারকা সাক্ষী’ হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম শুনানি করছেন। তাদের সঙ্গে অপর প্রসিকিউটররা শুনানিতে উপস্থিত থাকেন। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হতে মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৩ আগস্ট থেকে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হয়।
এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্ত করেন উপ-পরিচালক মো. আলমগীর। সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর চলতি বছরের ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে গত ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়। গত ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।
এফএইচ/কেএসআর/এমএস