রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজন জঙ্গি সাতক্ষীরার মুকুল রানা আওয়ামী পরিবারের সদস্য। তার বাবা আবুল কালাম আজাদের এমন দাবি উড়িয়ে দিল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বন্দুকযুদ্ধে নিহত মুকুল রানার বাবা ধুলিহর ইউনিয়নের বালুইগাছা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কাউন্সিলর। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। আমার ছেলেকে নিষেধ করেছিলাম তুমি এখন কোনো রাজনীতি কর বা না, আগে লেখাপড়া শেষ করো।’ তিনি আরো বলেন, যদি কোনো অপকর্মে জড়িত থাকে তবে বিচার হয়ে ফাঁসি হলেও কোনো দুঃখ ছিল না। কিন্তু এই যে ক্রসফায়ার হলো এটা তো মেনে নেয়া যায় না।মুকুলের বাবার এমন বক্তেব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনছুর আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, মুকুল আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। বরং আমরা দেখেছি ২০১৩ সালে রামচন্দ্রপুর এলাকায় নাশকতা ও ত্রাস সৃষ্টির যত ঘটনা ঘটেছে, তার নেতৃত্বে ছিল মুকুল রানা।জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মুকুল রানার বাবা আবুল কালাম আজাদ দাবি করছে সে আওয়ামী নেতা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর। কিন্তু আমরা তা কখনো দেখিনি বা জানিও না। মুকুলের বাড়ির এলাকা বালুইগাছা গ্রামটি একটি জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। তারা বহু অপকর্ম ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল তার প্রামাণ রয়েছে।অন্যদিকে, কলেজের সহপাঠীরা জানান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয় মুকুল রানা। ভর্তি হওয়ার পর থেকে মাঝে মধ্যে অনিয়মিতভাবে কলেজে যেত। প্রথম বর্ষ নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। কলেজের সহপাঠীরাও তাকে চিনতো না। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা তা জানে না ছাত্র সংগঠনের অন্য দলগুলোর নেতারাও। কলেজের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান সুমন ও আসাদুল ইসলাম জানান, সরকারি কলেজে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে কখনো দেখিনি, মুখটাও পরিচিত না।সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ভর্তি হওয়ার পর অল্প কিছুদিন ক্লাস করে মুকুল রানা। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বর্ষ নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এরপর থেকে মুকুল রানাকে আর বিভাগে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি ধুলিহর ইউনিয়নের বালুইগাছা পৌঁছায়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়ির উঠানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থনে তাকে দাফন করা হয়। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার মেরাদিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় শরিফুল ওরফে মুকুল রানা। আকরামুল ইসলাম/এআরএ/এমএস