দেশজুড়ে

বাগেরহাটে ঘুষের টাকাসহ ধরা খেলেন আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা

বাগেরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম জাকারিয়া ঘুষের টাকাসহ হাতে নাতে ধরা খেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তবুও তিনি ছিলেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কিন্ত এবার ঘুষ নেয়ার সময়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এই অসাধু কর্মকর্তা। জানা গেছে, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ড.এ.কে. আজাদ ফিরোজ টিপুর মোয়াক্কেল জনৈক ফরহাদ মোল্লাকে ক্রিঃ আপিল মোকাদ্দমায় (৩১১৫/২০১৪নং)হাইকোর্ট গত ৮ জুন জামিন মঞ্জুর করেন। ওই আদেশের কপি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসলে তা কনফরমেশনের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম জাকারিয়ার কাছে যান ফরহাদ মোল্লার স্ত্রী রাবেয়া বেগম। এসময় তিনি রাবেয়া বেগমের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন এবং না দেয়ায় ফরহাদ মোল্লার জামিন আদেশ কনফরমেশন করা হবে না বলে জানান। এক পর্যায়ে গত ১৯ জুন রাবেয়া বেগম আবারও তার কাছে গেলে এ.কে.এম জাকারিয়ার টাকাসহ আসতে বলেন। বিষয়টি রাবেয়া বেগম তাদের আইনজীবী অ্যাড. আজাদ ফিরোট টিপুকে জানালে তিনি পরের দিন (২০ জুন)তাকে টাকা নিয়ে আসতে বলেন। সোমবার রাবেয়া বেগম টাকা নিয়ে আসলে অ্যাড. ড.এ.কে. আজাদ, ফিরোজ, টিপুসহ কয়েকজন আইনজীবী পরামর্শ করে রাবেয়ার আনা টাকার প্রতিটি নোটের ফটোকপি করে রাখে। পরে রাবেয়া বেগমকে এ.কে.এম জাকারিয়ার কাছে পাঠালে তিনি উকিল ও মোহরি নিয়ে ১২ টার সময় আসতে বলেন। জাকারিয়া  ঘুষ নেয়ার সময় কৌশলে অ্যাড. ফয়সাল আরেফিন কয়েকটি ছবি তুলে রাখেন।পরবর্তীতে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, দুই এ.পি.পি এবং সরদার মুজিবর রহমান, হুমায়ুন কবিরসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবি জাকারিয়ার কাছে গিয়ে টাকার খাম চাইলে তিনি নিজ হাতে পাশের ড্রয়ার থেকে তা বের করে দেন। এসময় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিয়া হায়দার খামসহ টাকা হেফাজতে নেন।এ অবস্থায় বাগেরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অ্যাড. ড.এ.কে. আজাদ ফিরোজ টিপুর সহকারী রেজাউল করিম।শওকত আলী বাবু/এমএমজেড/এমএস