ঝিনাইদহে এবার করলা আবাদ করে হাজারো কৃষকের মুখে মিষ্টি হাসি ফুটেছে। স্থানীয় ভাষায় এটা উস্তে নামে পরিচিত বলে পুটিয়া-পন্ডিতপুর নামের এ গ্রামটি এখন পরিচিতি পেয়েছে উস্তের গ্রাম হিসেবে। করলা চাষি পুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও মধুনাথ পুর গ্রামের মিঠু জোয়ার্দ্দার বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের পুটিয়া, পন্ডিতপুর, কলামনখালী, মধথুনাথপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামে মাঠের পর মাঠ উস্তের আবাদ হয়েছে। এক বিঘা উস্তে চাষে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। মাত্র ৩ মাসের এ আবাদে উস্তে বিক্রি হয় ৭০-৭৫ হাজার টাকার। প্রতি বিঘায় ৬০-৭০ মণ উস্তে উৎপাদিত হয়। ফলে কৃষকের লাভ হয় ৫০-৬০ হাজার টাকা। প্রথম দিকে প্রতি কেজি উস্তে ৬০-৭০ টাকা বিক্রি হয়। বর্তমানে ২০-২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটা কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে অতিরিক্ত উস্তে জমা রেখে অন্য সময় বাজারজাত করতে পারতেন। এতে কৃষকরা লাভবান হতেন বলেও জানান তারা।নারী শ্রমিক শেফালী খাতুন জানালেন, বাড়ি বসে থেকে সংসার চলে না। প্রতিদিন উস্তের মাঠে মাত্র ৩ ঘণ্টা কাজ করে ২০০ টাকা করে পাই। এতে আমার সংসার এখন ভালোই চলছে। গ্রামের পুরুষ শ্রমিক আবু জাফরসহ বেশ কয়েকজন জানালেন, তারা করলা ক্ষেতে কাজ করে যা পান তাতে ভালোভাবে সংসার চলে যায়। সকাল ৬ টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তারা করলার ক্ষেতে কাজ করেন। পরে আবার অন্যান্য কাজও করতে পারেন।এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় করলার আবাদ হয়েছে ৩শ হেক্টর জমিতে। সদর উপজেলায় ৭২ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ১৮ হেক্টর, শৈলকুপায় ৭০ হেক্টর ও মহেশপুরে ১২৫ হেক্টর। কৃষকরা দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের করলার আবাদ করে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। কীটনাশক ছাড়াই নিরাপদ স্বাস্থ্য সম্মত সবজি চাষ করছেন তারা। এসময় তিনিও এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নত করা এবং একটি কোল্ড স্টোরেজের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বললেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা দিয়ে চলা যায় না। মাত্র একটি রাস্তা নির্মাণ করা হলে পুটিয়া-পন্ডিতপুরের করলা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হতো। এ দাবি এলাকার সার্বজনীন।আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এবিএস