একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় রাঙামাটি-বড়ইছড়ি-রাজস্থলী-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত আড়াই মাস ধরে ঘাগড়ার তালুকদারপাড়া রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। জানা যায়, রাঙামাটি-ঘাগড়া-বড়ইছড়ি-কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা-রাজস্থলী-বাঙালহালিয়া ভায়া বান্দরবান সড়কটির নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারের দায়িত্বে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি)। তাই ওই বেইলি ব্রিজটির পুনর্নির্মাণের কাজ করছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অন্যদিকে, ইসিবি বলছে তারা রাস্তাটি সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছে। তাই তাদের কাছে সড়কটির মেরামত ও সংস্কারের দায়িত্ব আর নেই। এ অবস্থায় দুটি কর্তৃপক্ষের রশি টানাটানি এবং একে অপরকে ঠেলে বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে বেইলি ব্রিজটির পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এতে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বেড়েছে চরম জনদুর্ভোগ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল একটি পণ্যবাহী ভারী ট্রাক রাঙামাটি থেকে রাজস্থলী যাওয়ার সময় ওই বেইলি ব্রিজে উপর দিয়ে উঠলে ট্রাকটিরর ভার সইতে না পেরে ব্রিজটি ভেঙে নিচে দেবে যায়। এরপর আর মেরামতের জন্য সরকারের কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে রাঙামাটি থেকে বান্দরবান, বড়ইছড়ি, রাজস্থলী, কাপ্তাই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ওই রাস্তা দিয়ে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ফসল ও পণ্য বিক্রি, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছে না। রোগীদের নিয়ে পড়তে হচ্ছে বেকায়দায়। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. আবু মুছা জানান, সড়কটি সেনাবাহিনীর ইসিবির নিয়ন্ত্রণাধীন। যতদিন তারা আমাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করবে ততদিন আমরা কোনো কাজ করতে পারব না। বেইলি ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য লাগতে পারে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।তিনি বলেন, বেইলি ব্রিজটি দ্রুত মেরামতের বিষয়ে ইসিবির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা বলেছে ৬টি সড়কের কাজ শেষ হওয়ায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তাদের কিছুই করার নেই। বিষয়টির ব্যাপারে কথা বললে ১৯ ইসিবির এক কর্মকর্তা জানান, তাদের অধীন ৬টি সড়কের কাজ শেষ হওয়ায় সেগুলো সড়ক বিভাগকে হস্তান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন থেকে ওই সড়কটি দেখাশোনা করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তাছাড়া আমাদের কোনো বাজেট নেই। গত ২ বছর ধরে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আর রাস্তার কাজ আমরা করলেও সেতুটি করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও সন্ত্রাস কবলিত এলাকাগুলোতে বেসামরিক প্রশাসন উন্নয়ন কাজ করতে না পারায় সেখানে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরকে কাজে লাগানো হয়েছে। তারা পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর ছোটখাটো রাস্তাঘাট ছাড়াও পার্বত্য এলাকায় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ করেছে সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবি। সেগুলো হলো- চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-রাঙামাটি সড়ক, বান্দরবান-চিম্বুক সড়ক, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা- বাঘাইহাট সড়ক, দীঘিনালা-ছোটমেরুং-কেংড়াছড়ি-লংগদু সড়ক, রাজস্থলী-ঘাগড়া-চন্দ্রঘোনা-বাঙাালহালিয়া, বান্দরবানের চিম্বুক থেকে রুমা সড়ক। প্রকল্পের মেয়াদ এবং সড়কগুলোর কাজ শেষ হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৬ রাস্তা সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করে গত বছরের ৩০জুন ইসিবি সমাপনী প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সেতু ও পরিবহন মন্ত্রণালয়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাস পার হলেও সেতু ও পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বিষয়টি ঝুলে আছে। এতে ওই বেইলি ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর গত আড়াই মাস ধরে বান্দরবান-কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি-বড়ইছড়ি-রাজস্থলী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এসএস/এমএস