ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সখীপুরে চলছে রমরমা হুন্ডি ব্যবসা। এ উপজেলার পৌর এলাকাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে। প্রতিদিনই ওই সব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নির্দিষ্ট কর্মচারীদের মাধ্যমে তারা বিদেশ থেকে পাঠানো হুন্ডির টাকা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে থাকেন। একটি মোবাইল ফোনই ওই টাকা আদান প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। জানা গেছে, সৌদি, আরব আমিরাত, দুবাই, কুয়েত, মালয়েশিয়া, বাহারাইন, ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে থাকেন। এদের মধ্যে অনেকে বিদেশে অবৈধভাবে কর্মরত থাকায় বৈধ কাগজ পত্রের অভাবে বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টাকা পাঠান। অবৈধ পথে এ টাকা পাঠানো ঈদের মধ্যে আরও বেড়ে যায়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা যেমন অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে উঠে। তেমনি পরিবারের চাহিদার কারণে প্রবাসীরাও টাকা পাঠানোর দিকে বেশি ঝুকে পড়েন। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর খরচ কম হওয়ায় এক রকম ঝুঁকি নিয়েই প্রবাসীরা টাকা পাঠিয়ে থাকেন। এ সুযোগে স্থানীয় হুন্ডি ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অবৈধভাবে হুন্ডির লেনদেনের ফলে বিভিন্ন ব্যাংকের বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।ন্যাশনাল ব্যাংক সখীপুর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল হক বলেন, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্সের প্রবাহ ঈদকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ বাড়ার কথা হুন্ডির কারণে সে পরিমাণ বাড়ছে না। অবৈধ পথে টাকা আসার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা কম আসে বলেও মনে করেন তিনি ।এ ব্যপারে সখীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবদুল্লাহ বলেন, পুলিশ হুন্ডি টাকা লেনদেনের ওপর নজর রাখছেন। এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/পিআর