দেশজুড়ে

২২ বছর পর সিলেট যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

প্রায় ২২ বছর পর সিলেটে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০০৪ সালের বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সিলেটে এসেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর সিলেট হয়ে দেশে ফিরলেও পুণ্যভূমিতে পা পড়েনি বিএনপির এই শীর্ষ নেতার। এবার সেই আক্ষেপ পূর্ণ হচ্ছে সিলেটবাসীর।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।

আজ বুধবার রাতেই বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছে সিলেট বিএনপি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। মাজার জিয়ারতের পর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

সিলেটের সমাবেশ শেষে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সমাবেশ করার কথা রয়েছে। তবে পুরো সফরসূচি বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

আজ প্রতীক বরাদ্দের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারণা শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। বিএনপির প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। তবে আর কে কে সফরসঙ্গীর তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন সেটি এখনো নিশ্চিত নয় দলটির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

এদিকে তারেক রহমানের সফরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এরই মধ্যে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে প্রতিটি রুটের জন্য একটি নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সফর ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার একটি ছক তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে প্রতিটি রুটের জন্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের জনসভার ভেতর, বাহির থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থানে আমাদের নজরদারি থাকবে। ড্রোন দিয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত সিলেট বিএনপি। দলের প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে সিলেটজুড়ে। নগরীর মোড়ে মোড়ে তারেক রহমান ও সিলেট বিএনপির নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।

তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান ছাড়াও সিলেটের জামাই। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সিলেটেরই সন্তান। যার জন্য তারেক রহমানকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ সিলেটবাসীর। তার জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও প্রচারণা চালাচ্ছে দলটি।

বিএনপি নেতারা বলেন, ২২ জানুয়ারি তারেক রহমানের আগমন সিলেটের ইতিহাসের এক মাইলফলক হিসেবে থাকবে। সিলেটি জামাই তারেক রহমানকে একনজর দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সিলেটবাসী।

তারেক রহমানের জনসভা সম্পন্ন করতে আলিয়া মাদরাসা মাঠে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ দিকে। গতকাল মঙ্গলবারও বিএনপি নেতারা আলিয়া মাদরাসা মাঠ পরিদর্শন করেন। বিএনপি এই জনসভাকে একটি বড় শোডাউন হিসেবে দেখাতে চায়। সুনামগঞ্জ ও সিলেটের কমপক্ষে তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই সমাবেশ বিভাগীয় সমাবেশ নয়। তবুও এই সমাবেশ সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি সিলেটের স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ হবে। অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তারেক রহমান বুধবার রাতে সিলেটে পৌঁছাবেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জনসভা হতে যাচ্ছে। জনসভা ঘিরে সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তার আগমন ও প্রস্থান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে কাজ করছি। সিলেটের পুলিশ প্রশাসন তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে বলে নিশ্চিত করেছে।

আহমেদ জামিল/এফএ/এমএস