প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুনীল কর্মকার। রাত ৪ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ময়মনসিংহ বাউল শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে এক অনন্য সম্পদ হারালো বাংলাদেশ। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য সুনীল কর্মকারের মরদেহ দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নগরীর টাইনহল শহীদ মিনারে রাখা হবে।
বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন সুনীল কর্মকার। দুর্ভাগ্যবশত সেই সময়েই তিনি চিরতরে হারান চোখের আলো। তবে অন্ধত্ব তার জীবনের পথ রোধ করতে পারেনি। নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও গানের সাধনা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি।
ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর বসিয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে তার। পাশাপাশি তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয়-প্রায় দেড়শ থেকে দুইশোর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি।
নেত্রকোনায় কেন্দুয়ায় জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেবল কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম-একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এ শিল্পী। লোক সঙ্গীতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত শিল্পকলা পদক লাভ করেন তিনি।
এমআই/এসএনআর/এমএমএফ/জেআইএম