দেশজুড়ে

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত মির্জাপুরের স্বপ্না

‘আল্লাহ রে, আল্লাহ, আল্লাহ কেন আমারে মরণ দেয় না, আমারে এক ফুটা বিষ আইনা দ্যান, আমি আর বাঁচতে চাই না। সুন্দর মুখ পচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে’ যন্ত্রণায় কথা বলতে না পারলেও ফুফিয়ে ফুফিয়ে এভাবেই সব সময় নিজের মৃত্যু কামনা করছেন টাঙ্গাইল মির্জাপুরের স্বপ্না বেগম (৩০)।পৌরসভার পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগরপাড়া) স্বপ্নার বাড়ি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ছাপরা ঘরের চকিরির উপর শুয়ে আছে স্বপ্না। ঘরে ঢুকতেই পচা দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।স্বপ্নার স্বামী হাসান মিয়া বলেন, মুখের মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সে কারণে এখন আর কেউ তার কাছেও আসতে চায় না। হাসান মিয়া জানান, ১৩ বছর আগে একই পাড়ার মেয়ে স্বপ্নাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে স্বপন (৯) তপন (৭) ও আরজিনা (৫) নামে তিন সন্তান রয়েছে। অভাবের সংসারে একদিকে রিকশা চালিয়ে, অন্যদিন ম্যাচে গ্যাস ভরার কাজ করে ভালোই কাটছিল তাদের সংসার। কিন্তু গত দেড় বছর আগে হঠাৎ স্ত্রী স্বপ্নার মুখের এক পাশে গলার নিচে একটা গোটা দেখা দেয়। ব্যথার কারণে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা করা হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে এক লোকের পরামর্শে টাঙ্গাইলের বটতলার একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে খেলে এক রাতের মধ্যে গোটার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং মুখে পচন ধরে।আর্থিক সংকটের কারণে তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের এক শতাংশ বাড়ি বন্ধক রেখে এবং পাড়া প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে প্রথমে ঢাকার শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল পরে মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। দীর্ঘ দেড় বছরের চিকিৎসায় প্রায় ৫/৬ লাখ টাকা খরচ হলেও অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরো অবনতি হয়েছে।অজ্ঞাত এই রোগে বর্তমানে স্বপ্নার মুখের এক পাশের মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হয়েছে। যন্ত্রণায় কথা বলতে না পারলেও ফুফিয়ে ফুফিয়ে সব সময় নিজের মৃত্যু কামনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এই যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো।’স্বপ্নার স্বামী হাসান মিয়া বলেন, ইতোমধ্যে চিকিৎসা করে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। চিকিৎসক বলেছেন ভারতের মাদ্রাজ নিয়ে চিকিৎসা করলে ভালো হতে পারে। তাতে আরো ৫/৬ লাখ টাকা লাগবে।স্বপ্নার ছোট বোন রত্না বলেন, মুখ ও ঘাড়ের মাংস পচে রস বের হচ্ছে গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না। অর্থের অভাবে এখন চিকিৎসাও বন্ধ। এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী মো. মাসুদ রানা বলেন, গরিব মানুষ, চিকিৎসা করে ইতোমধ্যে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। আমরাও যতদূর সম্ভব সাহায্য করেছি। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ। তিনি সমাজের বৃত্তবানদের এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো আহ্বান জানান। আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/এমএস