লঞ্চঘাটে নেই কোনো যাত্রী ছাউনি, নেই কোনো পল্টুন কিম্বা সিঁড়িও। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা কর্মজীবী মানুষের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে আসা মানুষেরা কর্মস্থলে ফিরতে নিদারুণ বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এমন চিত্র দেখা গেছে, পিরোজপুরের বেকুটিয়া লঞ্চঘাটে। উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে আসা প্রায় আট সহস্রাধিক মানুষ ছুটি শেষে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। ঈদের ছয় দিন পরও সদর উপজেলার বেকুটিয়া লঞ্চঘাটে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বেকুটিয়া লঞ্চঘাটে মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগেরহাট থেকে ঢাকাগামী এমভি রেডসান উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে। এসময় লঞ্চের ছাদ পর্যন্ত ছিল না তিল ধারনের ঠাঁই। বেকুটিয়া দিয়ে এসময় লঞ্চ ওঠে আরো প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। লঞ্চের যাত্রীরা ঘাটে এসে ছোট ছোট ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠানামা করে। এসময় অনেক যাত্রী তাড়াহুড়ো লঞ্চে লাফিয়ে উঠে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। এদিকে, বেকুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও লঞ্চের সুপারভাইজার মো. ছাত্তার শেখ (৬০) শুরু থেকেই ঘাটে লঞ্চ ভিড়লেই প্রতি ট্রিপে পাঁচশ টাকা আদায় করেন। কিন্তু বিআইডব্লিউটিসি থেকে বেকুটিয়ায় কোনো ঘাট বরাদ্দ না দিলেও প্রায় তিন বছরের অধিক সময় সরকারি কোষাগারে রাজস্ব না দিয়ে এমভি পূবালী ও রেডসান নামের দুটি এবং সম্প্রতি আরো একটি এমভি মানিক-১ লঞ্চটি ঘাট বরাদ্দ দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু বেকুটিয়ায় লঞ্চ ভিড়লেও যাত্রীদের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।যাত্রীদের অভিযোগ, এই ঘাটে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই এবং নেই কোনো পল্টুন কিম্বা সিঁড়ি। এছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রতি টিকিটে ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের। অন্যদিকে বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী বিকল্প পথে লঞ্চযোগে কর্মস্থলে ফিরছে। তবে রকেট ও লঞ্চের যাত্রীরা লঞ্চের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে ফিরছে। এ বিষয়ে অনেক ভোক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। হাসান মামুন,পিরোজপুর/ এএম/এআরএ/আরআইপি