বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে অনেকাংশে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
রোববার (৮ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগ, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখা, কিডনি কেয়ার সোসাইটি এবং প্রথম আলো যৌথভাবে আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসসহ বিভিন্ন কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এজন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একজন রোগীকে যখন নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হয়, তখন তা পুরো পরিবারের জন্য বড় আর্থিক ও মানসিক চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেমন হাসপাতাল ও সিটি জেনারেল হাসপাতালের পাশে একটি আধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বল্পমূল্যে রোগীদের সেবা দেওয়া হবে।
মেয়র আরও বলেন, নগরের পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। হালিশহর এলাকায় বর্জ্য থেকে প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই চলছে। এছাড়া বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে সবুজ নগর গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম শহরে ১০ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় কাটা ও জলাশয় ভরাটের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
ঐতিহ্যবাহী আশকার দিঘি, ভেলোয়ার দিঘি ও কাজির দিঘিসহ বিভিন্ন জলাশয় সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকটি বিশ্বজিৎ চৌধুরী সঞ্চালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইমরান বিন ইউনুস, কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মাহতাবুল ইসলাম, সাবেক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দত্ত, চমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক এম এ কাসেম, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক এহতেশামুল হক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম, চমেকের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ আবদুর রব, কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ মো. ফয়েজুর রহমান, শফিউল হায়দার রোশনী ও রফিকুল হাসান।
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাদের, রোজানা বিনতে কামাল, মো. জাহেদ উদ্দিন, সাদ্দাত হোসেন, কনসালট্যান্ট কামরুল ইসলাম, নয়না নাজির এবং জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেরিনা আরজুমান্দ।
এমআরএএইচ/এমআইএইচএস