অতিরিক্ত যৌতুক না পেয়ে চুয়াডাঙ্গায় শোয়ার ঘরে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী। ঘটনার পরপরই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ঘাতক আকাশ ওরফে মিঠু। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার মহাম্মদজমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তহমিনা খাতুন ওরফে তহুরা (২৬) সদর উপজেলার মহাম্মদজমা গ্রামের দিনমজুর সবোদ আলীর মেয়ে। যৌতুক না পেয়ে ক্ষুব্ধ স্বামী মিঠু রাতের অন্ধকারে শ্বশুরবাড়িতে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।জানা গেছে, তহমিনা খাতুন ওরফে তহুরার (২৬) সঙ্গে এক বছর আগে পার্শ্ববর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের রমজান গাজীর ছেলে আকাশ ওরফে মিঠুর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মিঠুকে ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দেন দরিদ্র সবোদ আলী। কিন্তু প্রথম পক্ষ থেকে তালাকের সময় দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ ৫০ হাজার টাকা পান তহমিনা খাতুন। সেই টাকাসহ আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল স্বামী মিঠু (৩২। টাকা না পেয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল মিঠু। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাশের বাড়ি ভূতে ধরা রোগী দেখতে যায় তহমিনার বাড়ির লোকজন। এই সুযোগে গোপনে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে স্ত্রী তহমিনাকে হত্যা করে স্বামী মিঠু। এসময় তহমিনার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন ছুটে এলে মিঠু ঘর থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ঘণ্টা খানেকের মাথায় স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ তাকে আটক করে। তহমিনার বাবা সবোদ আলী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর তাকে ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়া হয়েছে। এরপরও আরো এক লাখ টাকার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল মিঠু।এলাকাবাসী জানান, মিঠু সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। এর আগে কয়েকবার জেলও খেটেছে। চরমপন্থী দলের সঙ্গে তার সখ্য আছে। বিভিন্ন থানায় তার নামে মামলাও রয়েছে। সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক জানান, ‘শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় যৌতুকের দাবিতে স্বামী মিঠু স্ত্রী তহমিনাকে গলাকেটে হত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মিঠুকে পার্শ্ববর্তী তিয়রবিলা গ্রাম থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সালাউদ্দীন কাজল/এআরএ/পিআর