দেশজুড়ে

জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের ৩ নারী কারাগারে

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কালিহাতী থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিগোষ্ঠী জামায়াতুল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্যের তিন দিন রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  শুক্রবার দুপরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।সুইসাইড স্কোয়াডের ৩ নারী সদস্য হলেন, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের মোকসেদুল ইসলাম মোজাম্মেল ওরফে হারেছের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩০), পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহর ইউনিয়নের গজপুরি গ্রামের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুলের স্ত্রী সাহজাদা আক্তার সাথী (২২) ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগড়া গ্রামের আবু সাঈদ ওরফে সবুজের স্ত্রী জান্নাতী ওরফে জেমি (১৮)।গত সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় কালিহাতী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ওই তিন নারীকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের তিন দিন রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসুম তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্যের একটি দল টাঙ্গাইলে অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ৫ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার যোকারচর রেলগেটের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি চাপাতি, একটি ছোরা, মানুষ জবাই করার জিহাদি ভিডিওচিত্র ও বোমা তৈরির কলাকৌশল লেখা একটি খাতা উদ্ধার করা হয়। পরদিন কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ওই তিন নারী সদস্যকে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রিমান্ডের জন্য সন্ধ্যায় আদালতে তাদের হাজির করা হয়। কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে বিচারিক হাকিম অঞ্জন কান্তি দাস তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আটকদের টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড আবেদনের শুনানি ঈদের ছুটির পর আদালত অনুষ্ঠিত হবে।আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএএস/এমএস