কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকত সংলগ্ন একটি আবাসিক কটেজে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কটেজের গেইট, সীমানা দেয়াল ও সৌন্দর্য বর্ধকারী স্থাপনা। সরকারি জায়গায় ‘অবৈধ স্থাপনা’ করার অভিযোগে রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘ডিভাইন ইকো-রিসোর্টস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ নামক সৈকত সংলগ্ন আবাসিক এক কটেজে এই অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজার সদর ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মাজহারুল ইসলাম এই অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী শাওন সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা করায় তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পশ্চিম পাশে সৈকতের কূল ঘেঁষে এই স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল। অভিযানকালে তার সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমদ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা না করার। একদিকে এটি, অন্যদিকে সরকারি জমি ‘বিশেষ ভাবে’ ব্যক্তি মালিকানার বলে প্রতিবেদন নিয়ে অবৈধ দখল ও স্থাপনা গড়ে তুলেন দখলদার। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ৫০ শতক জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে কটেজ মালিক দাবিদার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী শাওন অভিযোগ তুলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার বিশ হাজার এক ও বিশ হাজার ২৬ দাগের এক দশমিক ৫২ শতক জমির ক্রয়সূত্রে বৈধ মালিক বলে দাবি করেন শাওন।‘সার্ভে কমিটির রিপোর্ট’ অনুযায়ী তার দখলে কোনো অবৈধ জমি নেই দাবি করে শাওন বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষে ‘অনাপত্তি’ দিয়ে জমিতে আমার স্বত্ব স্বীকার করেছেন আদালতের জিপি। তার মতে, এসিল্যান্ড ও তহসিলদার এর রিপোর্টও পক্ষে রয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, জমির উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গত ২০১০ সালের ৮ মার্চ কক্সবাজার যুগ্ম-জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রঞ্জন কুমার সাহা নির্দেশ দেন। অথচ উচ্ছেদ আভিযানের আগে কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। তাই তিনি একে বিশেষ মহলের ইন্দনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।তার এ দাবিকে অস্বীকার করেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাজহারুল ইসলাম।সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এবিএস