ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরাঞ্চলের অসহায় দুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বরাদ্দকৃত একমাত্র সি-অ্যাম্বুলেন্সটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চরাঞ্চলের দরিদ্র রোগী ও তাদের স্বজনদের।২০১৩ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর কেন্দ্রীয় ঔষোধাগার থেকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স (সি-এ্যাম্বুলেন্স) দেয়। সে সময় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেন। সি-অ্যাম্বুলেন্সটি অত্যান্ত আধুনিক ও উন্নতমানের ছিল। নদী পথে রোগী পরিবহনের জন্য এর ভেতর স্যালাইন ব্যবস্থাসহ একটি আরামদায়ক বেড ও আধুনিক পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা ছিল। পরিচর্যা আর পরিচলনার গাফলতিতে সেটি আজ নিজেই অসুস্থ। কাদামাটি আর ময়লা-আবর্জনা পড়ে সেটি পুরোপুরি নষ্ট হওয়া পথে। সূত্রে জানা যায়, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী অধ্যুষিত চরঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ সি-অ্যাম্বুলেন্সটি হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কে.এম.ওবায়দুল বারীর দায়িত্বে দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি প্রথম এক বছর উপজেলার গোপালপুর ঘাটে পড়ে ছিল। পরে সেটিকে নিয়ে সদর ইউনিয়নের জাকেরের শুরা খালের ভিতর রাখা হয়। প্রায় দুই বছর কাদা মাটিতে ফেলে রাখায় সি-অ্যাম্বুলেন্সটির কাচের দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। অযন্তের কারণে লাখ টাকা মূল্যের এম্বুলেন্সটির ইঞ্জিনসহ প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এটি গরীবের সম্পদ তাই এই সম্পদ দেখভাল করার লোকের খুব অভাব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় অ্যাম্বুলেন্সটির আজ এ দশা। চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্বশালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সাজেদা বেগমের (৪০) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সরকারের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির কথা তারা জানতেন না। চরের কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে ভ্যান অথবা তক্তা ও বাঁশ দিয়ে মাচা বানিয়ে ট্রলারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ট্রলারে অনেক কষ্টে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নদী পার হতে হয় রোগী ও স্বজনদের। নদী পথে দীর্ঘ সময় লাগায় অনেক সময় নৌকা বা ট্রলারেই গর্ভবতী মায়েদের সন্তান জন্ম হয়ে যায়। আবার দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছতে না পেরে অসুস্থ অনেক রোগী মারা যায়।এই বিষয়ে হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়দুল বারি দিপু বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে বোটটি আমার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হলেও এর সঙ্গে কোনো চালক না দেয়ায় ও এর ইঞ্জিন খুবই দুর্বল হওয়ায় নদী পথে রোগী আনা নেওয়া সম্ভব হয় না। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত সরকারি বাহনটির এই দুরাবস্থার কথা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা সিদ্দিকা জাগোনিউজকে বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত এটি মেরামত করা হবে এবং হরিরামপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সি-অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়া হবে। এফএ/এমএস