দেশজুড়ে

উল্টাছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন আত্মসাতের অভিযোগ

গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারীদের রেশন আত্মসাৎ ও রেশন বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের উল্টাছড়ি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সভাপতি মো. হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে। গুচ্ছগ্রামের ২৫ জন কার্ডধারী তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।কার্ডধারীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প সভাপতি মো. হানিফ মিয়া ও তার ছেলে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সাময়িক বহিষ্কৃত) মো. আবু তাহের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গত এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও মো. হানিফ মিয়া প্রকল্প সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে দুই বছর ধরে কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত গম বিতরণ করেননি। উপরন্তু কার্ডধারীদের চালের বিপরীতে কেজিপ্রতি ১১ টাকা এবং গমের বিপরীতে ৯ টাকা করে নিতে বাধ্য করছে। হাতেগোনা যেসব কার্ডধারীর মাঝে বরাদ্দকৃত রেশনের অংশ চাল বিতরণ করা হয় তাদেরও প্রতি বস্তায় ৫/৭ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়। আর এসব বিষয় নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে তাকেই মারধর করে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন বাবা-ছেলে।  জানা গেছে, গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণে নানা অনিয়মের মাধ্যমে গত দুই বছরে একাধিক বাড়ি-গাড়ির মালিকসহ ‘শূন্য থেকে কোটিপতি’ বনে গেছেন এক সময়ের রিকশাচালক মো. হানিফ মিয়া ও তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু তাহের। রিকশাচালক মো. হানিফ মিয়ার ছেলে এখন প্রাইভেটকারসহ একাধিক মোটরসাইকেলের মালিক। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টাছড়ি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প সভাপতি মো. হানিফ মিয়া ও তার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সাময়িক বহিষ্কৃত) মো. আবু তাহের বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই একটি মহল তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ সত্য দাবি করে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাথ দেব বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এসব অনিয়ম করে আসছে। গত কয়েক ডিওতে বহু কার্ডধারীকে রেশন বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া সদ্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের এই দুই শীর্ষ নেতা। কার্ডধারীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এআরএ/আরআইপি/এমএফ