দেশজুড়ে

পেকুয়ায় দু`পক্ষের সংঘর্ষে নারী নিহত

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কাদিমাকাটায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে সাজেদা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। সাজেদা বেগম কাদিমাকাটার নুরুল আবছারের স্ত্রী ও ৬ সন্তানের জননী। আহতরা হলেন- নুরুল আবছার (৫০), তার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০), কাওসার বেগম (২৮), ফাতেমা বেগম (২২), মিনুয়ারা বেগম (২০), মুন্নি আকতার (১৭), ছাবের আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩০), খদিজা বেগম (৪৫), নুরুল আলমের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩০) । আহতদের পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পেকুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজ ভূইয়া জানায়, উপজেলার টৈটং এলাকার মৃত গোলাম রহমানের ছেলে নুরুল আবছার, নুরুল আলম ও ছাবের আহমদ পৈত্রিক ভিটায় পাশাপাশি বাস করতেন। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় নুরুল আবছার টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের সীমান্ত কাদিমাকাটায় নতুন জমি কিনে আলাদা বাড়ি করে সেখানে স্থানান্তরিত হন। তবে পৈত্রিক অংশ কাউকে বিক্রি কিংবা হস্তান্তর করেননি। সে জমিটি সংরক্ষণের জন্য মঙ্গলবার সকালে নুরুল আবছার ও তার চার মেয়ে বিরোধীয় জমিতে কাটা তারের বেড়া তৈরি করতে যায়। সেখানে বসবাসকারী অপর দু’ভাই ছাবের আহমদ ও নুরুল আলমের পরিবারের লোকজন নুরুল আবছারের অংশটি জোর করে ভোগ করার লক্ষ্যে তাদের বেড়া দিতে বাধা দিতে আসে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত সাজেদা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতল (চমেকে) রেফার্ড করা হয়। চমেকে নেয়ার পথে বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী এলাকায় পৌঁছার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাজেদা মারা যান। তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দলকে ঘটনাস্থল পাঠানো হয়। সমস্ত কিছু জেনে পুলিশ চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে ছাবের আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, আব্দুল ছালামের স্ত্রী খদিজা বেগম ও নুরুল আলমের স্ত্রী পারভিন আক্তারকে আটক করে। তিনি জানান, লাশটি বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ থানায় আনা হয়েছে। সেখানে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।সায়ীদ আলমগীর/এসএস/আরআইপি