দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : বিদ্যালয় নদীগর্ভে

কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উলিপুরের গুজিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার দেড় শতাধিক চর ও দ্বীপ চর তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।এদিকে, বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছায় খাদ্য সংকটসহ দুর্ভোগে পড়েছে বানবাসীরা। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। সদর উপজেলার চর পার্বতীপুর গ্রামের আহেলা বেগম জানান, তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। বন্যা আসায় হাতে কোনো কাজ নেই। ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে তাদের। একই চরের বাসিন্দা আবদার জানান, ঘরে খাবার নাই, কাজেও যেতে পারছি না। কেউ এখন পর্যন্ত খোঁজ-খবর নেয়নি। খুব কষ্টে আছি। বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রহ্মপূত্র ও ধরলার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিচু এলাকার জনগণ গবাদিপশুসহ বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র ভাঙনে গুজিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, গত দু’দিন থেকে বন্যার ফলে ইউনিয়নের কালির আলগা, গোয়ালপুরী, রলাকাটা, বড়ুয়া, পোড়ারচর, চর ভগবতীপুর, চর পার্বতীপুর, গারুহারা, ফারাজীপাড়া, চর ঘনেশ্যামপুর, চর যাত্রাপুরসহ ১১টি চর পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।  কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জাগো নিউজকে জানান, আমাদের কাছে ১শ মেট্রিক টন চাউল ও ৪ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার বন্যার্তদের জন্য খয়রাতির ৯০ মেট্রিকটন চাল ও ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ৯ উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।কুড়িগ্রম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  নাজমুল হাসান/এএম/পিআর