দেশজুড়ে

চরের মেয়েরা কুঁড়িতেই বুড়ি : নেই পরিবার পরিকল্পনা

সোনিয়া বেগম। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর আন্ডা গ্রামে বসবাস। ৮ম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয় পাশের গ্রামের হালেম গাজীর ছেলে তারেকের সঙ্গে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সোনিয়ার কোল জুড়ে আসে একটি কন্যা সন্তান। ওই সময় সোনিয়া বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে অনেক অসুস্থ হয়ে পরেন। তবে এর পরবর্তী বছরে আবারো গর্ভবতী হয়ে পরেন সোনিয়া। ১৬ বছর বয়সেই সোনিয়া এখন দুই সন্তানের মা। দুটিই কন্যা শিশু।এরপর সোনিয়ার বয়স যখন ১৮ ছুই ছুই সে সময় তার কোলজুড়ে আসে একটি ছেলে সন্তান। বর্তমানে সোনিয়ার বয়স কুঁড়ি। কিন্তু সোনিয়ার চেহারা পড়েছে এখন ৪০ বছর বয়সী নারী ছাপ। তবে সোনিয়া যেমন কুঁড়িতে বুড়ি হয়েছে তেমনি অল্প বয়সে ও বার বার সন্তান নেয়ায় মা ও সন্তান উভয়ের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। এলাকার তথ্যানুযায়ী, চরের অধিকাংশ মেয়েরই ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই বিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে প্রতি ঘরেই ৪ থেকে ৫টি সন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয় সোনিয়ার স্বামী তারেকের সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের যখন বিয়ে হয় তারা পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মবিরতিকরণ পদ্বতি সম্পর্কে নিজের ও তার স্ত্রীর কোনো ধারনা ছিল না। এ কারণে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোলজুড়ে একের পরে এক সন্তান এসেছে।এদিকে জনবল সঙ্কট আর যাতায়াত সমস্যার কারণে পটুয়াখালী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর অনেক সময় এসব চরে কাঙ্খিতমানের সেবা দিতে পারে না। এই প্রতিষ্ঠানে সরকার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত পদের বিপরীতে অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি থাকায় ব্যহত হচ্ছে এখানকার সেবা কার্যক্রম।জানা গেছে, উপ পরিচালক, সহকারী পরিচালক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, মেডিকেল অফিসার পদে মোট ২৫ জনের পদ থাকলেও বর্মমানে কর্মরত আছেন ৯ জন। ১৬টি পদ খালি রয়েছে। সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, সরবরাহ কর্মকর্তা পদে ১৪টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৬ জন। ৮টি পদ খালি রয়েছে। তবে পটুয়াখালী জেলায় সার্বিকভাবে পরিবার পরিকল্পনা সেবাগ্রহণের সংখ্যা ভালো। জেলার মোট সক্ষম দম্পতির সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৮৬ জন হলেও গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, বহুমূখী সংস্থা সমূহে মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৭৬ জন বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করেছে। এ হিসেবে প্রায় ৮০.৬২ ভাগ দম্পতি পরিবার পরিকল্পার সেবা গ্রহণ করেছেন।এ বিষয়ে পটুয়াখালী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ পরচিালক ডা. জসিম উদ্দিন জানান, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছেন। তবে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরেও অধিকাংশ মানুষের কাছেই পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌছে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলায় শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ দিলে ও জেলা কার্যালয়সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে এই সেবার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। এমএএস/এমএস