দেশজুড়ে

সাতক্ষীরায় ধানের চাতাল বন্ধ : বেকার সহস্রাধিক মানুষ

সাতক্ষীরায় ধানের অধিকাংশ মিল-চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেকার হয়ে পড়ছে এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষ।পাটকেলঘাটা এলাকার নগরঘাটা কাপাসডাংগা এলাকার মিল-চাতাল ব্যবসায়ী রিমি এন্টারপ্রাইজের মালিক লুৎফর রহমান জানান, লাখ লাখ টাকা খরচ করে নির্মিত আমার প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ। ৭০-৮০ জন শ্রমিক আমার এখানে কাজ করতো। এখন তারা কেউ নেই। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমিও বেকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।মিলে জ্বালানি সরবরাহকারী শরিফুল ইসলাম জানান, ধানের চাতালে আমরা জ্বালানি সরবরাহ করি। কিন্তু চাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের জ্বালানি সরবরাহ হচ্ছে না। আমরা শত শত মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছি। কেউ কেউ অন্য পেশা বেছে নিয়েছে।আসামনগর এলাকার মিল-চাতাল মালিক ইসহাক সরদার বলেন, ভারত থেকে চাল আসার কারণে আমাদের দেশীয় চাল খুব বেশি চলে না। ভারতের চালের দাম কম আর আমাদের চালের দাম বেশি। যার কারণে আমাদের চাল কেউ কিনতে চায় না। তিনি ভারতীয় চাল দেশে প্রবেশ বন্ধের দাবি করেন।পাটকেলঘাটা এলাকার মিল-চাতাল মালিক অমেন্দ্র নাথ মন্ডল জানান, সরকার আগে হাসকিং মিল থেকে চাল কিনতো। এখন অটোরাইচ মিল থেকে চাল ক্রয় করে। যার কারণে হাসকিং মিলগুলো মার খেয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে হাসকিং মিল থেকে চাল ক্রয় করার দাবি জানান।জানা গেছে, তালাসহ পাটকেলঘাটা এলাকার অধিকাংশ মিল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮-২০ বছর আগে। গত ৭-৮ বছর আগে থেকেই মিলগুলোর কার্যক্রম আর আগের মত চলে না। উপজেলাব্যাপী বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক মিল-চাতাল। এসব কথা জানিয়ে মিল শ্রমিক রুবেল শেখ বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছোট খাট মিল-চাতাল ব্যবসায়ী কৃষকদের পেটে লাথি মারছে। যাদের দলীয় পরিচয় আছে তারাই সরকারি বরাদ্ধ বেশি পায়।মিল শ্রমিক আজিরন বেগম বলেন, মিলের কাজ-কাম ঠিক মতো হয় না। স্বামীর আয়েও সংসার চলে না। বন্ধ মিল চালু হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, যে সকল কারণে এসব ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আকরামুল ইসলাম/এসএস/এমএস