দেশজুড়ে

ভিত্তিস্থাপনে প্রস্তুত ত্রিপুরা : জমি অধিগ্রহণ হয়নি বাংলাদেশে

দুই বাংলার মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে আগামী ৩১ জুলাই (রোববার) আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এদিন ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু আগরতলা এসে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে ত্রিপুরার গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই দিনে প্রথমবারের মতো আগরতলা থেকে সরাসরি দিল্লি যাওয়ার ট্রেনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় ওই মন্ত্রী।ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক দেশের কথা’ ও ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। পত্রিকা দুটি তাদের খবরে বলেছে, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আগরতলা-দিল্লি ট্রেন চলাচলের বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। গত শুক্রবার এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিপুরার পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে।তবে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও বাংলাদেশ অংশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার যে ১০ কিলোমিটার অংশে রেললাইন স্থাপন করা হবে, সেজন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শুরুই হয়নি।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ অংশের রেললাইন স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা দিয়ে জমি অধিগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে আমরা বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছি, কিন্তু এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমাদের কাছে এসে পৌঁছেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন হবে ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার ও ভারতের অংশে পাঁচ কিলোমিটার। রেললাইনটি আগরতলা স্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন পর্যন্ত আসবে। প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ৯৭ কোটি রুপি পেয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। এর পুরোটাই ব্যয় হবে ভারতের অংশের পাঁচ কিলোমিটার রেললাইনের জন্য ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণে। ওই পাঁচ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮০ কোটি রুপি। বাংলাদেশের দিকে ১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ভারতের ডোনার (ডেভেলপমেন্ট অব নর্থ ইস্ট রিজন) মন্ত্রণালয় ১৫০ কোটি রুপি দিচ্ছে সেখানকার রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে। আপাতত জমি অধিগ্রহণের জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ৯৭ কোটি রুপি পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।আজিজুল সঞ্চয়/এসএস/এবিএস