দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় নিখোঁজের ৪০ ঘণ্টা পর শিক্ষক রফিকুল ইসলামের (৪৪) ও ২৪ দিন পর প্রতিবন্ধী সামাদুল হকের (১৮) মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম চিরিরবন্দর হাটখোলা গ্রামের আলহাজ খবির উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি চিরিরবন্দর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক। তিনি উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের হামিদুল হকের ছেলে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে আত্রাই নদী থেকে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে প্রতিবন্ধী সামাদুল হকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিক্ষক রফিকুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।রফিকুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই শনিবার দিবাগত রাত ৯টায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত অনেক গভীর হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলে ফোন বন্ধ পায়। এতে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও উৎকন্ঠা আরো বাড়তে থাকে। সারারাত বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধ্যান না পাওয়ায় রোববার চিরিরবন্দর থানায় জিডি করা হয়। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। নিখোঁজ রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ জানান, রাতে কারেন্টহাট এলাকার জয়নাল মাস্টারের জামাই মাসুদ নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আটক মাসুদ জানান, ওই রাতে আব্দুলপুর গ্রামের আবু হোসেনের ছেলে নুরুল হক (৫০), আন্ধারমূহা গ্রামের হাইসোর ছেলে মহসিন (৪৯) ও আমি শিক্ষক রফিকুলকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে সদর উপজেলার উলটগাঁও গ্রামে জুয়া খেলতে নিয়ে যাই। গভীর রাতে জুয়ার আসরে পুলিশ অভিযান চালালে আমরা পালিয়ে আসি। কিন্তু শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। বিষয়টি আমি ভয়ে কাউকে জানাইনি। সকাল বেলা গোপনে খোঁজ করেও তাকে পাইনি।সোমবার দুপুর ২টায় উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের তালপুকুর নামক ঘাটে আত্রাই নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। এ সংবাদ জানতে পেরে থানা পুলিশ ও নিখোঁজ রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মরদেহ সনাক্ত করেন।ওই ঘাটের মাঝি এমদাদ হোসেন জানান, লাশটি ভেসে যাচ্ছিল। আমি শার্টের কলার ধরে মরদেহটি নদীর ওপরে তুলে নিয়ে আসি। চিরিরবন্দর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মাসুদ নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঠিক কিভাবে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে তা এখনি নিশ্চিত করে বলা যাবেনা। মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে।একই দিন দুপুর ১২টায় উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের হামিদুল হকের প্রতিবন্ধী ছেলে ছামাদুল হকের (১৮) একটি গলিত মাথাবিহীন মরদেহ বাড়ির পার্শ্বে পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ। গত ২৪ দিন ধরে সামাদুল হক নিখোঁজ ছিল। এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/এবিএস