দেশজুড়ে

রাজবাড়ীতে নদীগর্ভে স্কুল বিলীন

নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোত থাকায় গত দুই দিনের ভাঙনে  রাজবাড়ীর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি টিনশেড ভবন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।তবে এলাকাবাসীর দাবি, বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিংয়ের কাজ ধীর গতিতে ও সম্পূর্ণ কাজ না করায় স্কুলসহ গ্রামটি ভাঙনের কবলে পড়েছে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শত প্রতিকূলতার মধ্যে নিয়মিত পাঠদানসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছিল স্কুলটি। বিগত কয়েক বছরের ভাঙনে নদীটি এবার একবারে স্কুলের পেছনে এসে দাঁড়ায়।বালুর বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করার কথা থাকলেও সময় মতো কাজ শেষ না হওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়ে স্কুলটি।এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ম মেনে ও সময় মতো কাজ শেষ না করায় আজ স্কুলটি নদীতে ভেঙে গেল। তাই উপায়ন্তুর না পেয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও এলাকাবাসী টিনশেড ভবন থেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয়। দুইটি ভবনের একটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়াতে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন শঙ্কায়।এলাকাবাসী জিয়াউল হক জানান, ভাঙতে ভাঙতে একটি ভবন নদীতে চলে গেছে। আরেকটি নতুন ভবন আছে সেটি যেন না ভেঙে যায় সেজন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ থাকলো। উড়াকান্দা সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ডাম্পিংয়ের কাজের ধীরগতি এবং বাকি কাজ না করাতে এ স্কুলটি ভেঙে যাচ্ছে।উড়াকান্দা সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বিজেন্দ্রনাথ দাস জানান, ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ জন শিক্ষক ও দুইটি ভবন ছিল স্কুলটিতে। একটি টিনশেড এবং অপরটি বিল্ডিং। এর একটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অপরটি হুমকির মুখে। তিনি আরো বলেন, এখনো ভাঙন অব্যাহত আছে। ভাঙন রোধ করতে না পারলে অন্য যে ভবনটি আছে সেটিও নদীতে চলে যাবে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় ভাঙন এবার বড় আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটি ভেঙে গেছে, তবে অন্য ভবনটি যেন ভেঙে না যায় এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে জানানো হরেছে। তবে পরীক্ষা নেওয়া হবে যে কোনো উপায়ে।সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, ভাঙন কবলিত ভবনটির জিনিসপত্র সরানো হচ্ছে। তাছাড়া ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা দেওয়া হয়েছে। বাচ্চাদের পরীক্ষার কোনো সমস্যা হবে না। কারণ ভাঙন কবলিত বিদ্যালটির পাশে একটি মাদরাসা আছে সেখানে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর জানান, ঈদের আগে জরুরি ভিত্তিতে ৩ হাজার ৬০০ বালুর বস্থা ফেলে যে ডাম্পিং করার কথা ছিল তার মধ্যে কাজ হয়েছিল ৩ হাজর ৩০০ বস্তার মতো। আর বাকী বস্তাগুলো জরুরি কাজের জন্য রাখা হয়েছিল যা আজ ফেলা হচ্ছে। রুবেলুর রহমান/এসএস/আরআইপি