ভিক্টোরিয়া কলেজ হোস্টেল থেকে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বৃহত্তর কুমিল্লার আঞ্চলিক নেত্রী কানিজ ফারহানা বাতুলসহ তিন ছাত্রীকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন থানার এসআই নুরুল ইসলাম। বুধবার গভীর রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ধর্মপুরস্থ ডিগ্রি শাখার নবাব ফয়জুন্নেছা ছাত্রী নিবাসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, লিফলেট ও ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ধর্মপুরস্থ ডিগ্রি শাখার নবাব ফয়জুন্নেছা ছাত্রী নিবাসে অভিযান চালায়। এসময় ওই ছাত্রী নিবাসের ২০২নং কক্ষে অবস্থানরত কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী ও দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামের মতিউর রহমানের মেয়ে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের নেত্রী কানিজ ফারহানা বাতুল (২৬), সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শংকরপুর গ্রামের ইলিয়াছ মিয়ার মেয়ে সালমা আক্তার (২৬), ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চাঁপাচো গ্রামের মোবারক হোসেনের মেয়ে আরজিনা আক্তার চম্পাকে (২৫) আটক করে। এসময় তাদের নিকট থেকে ডাক্তার জাকির নায়েকের লেখা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমসহ বিভিন্ন ধরনের জিহাদি বই, ডায়েরি ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব জানান, আটকরা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেত্রী। এছাড়াও তারা পারিবারিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটিত করার জন্য ওই ছাত্রী নিবাসে অবস্থান করছিল। তাদের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। কামাল উদ্দিন/এআরএ/এবিএস