সাতক্ষীরার কলারোয়ার টালি শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। বায়াররা ঠিকমতো টাকা পরিশোধ না করা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্পটি। প্রথম দিকে সাতক্ষীরার এ টালি শুধু ইতালিতে রফতানি হলেও বর্তমানে এটি আমেরিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও লন্ডনে যাচ্ছে। লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও এ শিল্প থেকে মুখ ফিরে নিয়েছে অর্ধেক ব্যবসায়ী। জানা গেছে, কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়া এলাকায় বিদেশে রফতানিযোগ্য প্রায় দেড়শ ধরনের টালি প্রস্তুত করা হয়। টালি শিল্প এলাকা হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে এলাকাটির। প্রথমদিকে ৪০টি কারখানায় কাজ করতো ৫ হাজার শ্রমিক আর এখন ১৫-২০টি ছোটবড় কারখানায় কাজ করে এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক। টালি ব্যবসায়ী বাদল চন্দ্র পাল জাগো নিউজকে জানান, যারা টালি নিয়ে যায় তারা টাকা দিচ্ছে না, ফাঁকি দিচ্ছে। ব্যবসা আর আগের মতো হয় না। পুঁজি না থাকলে ব্যবসা করা যায় না। প্রথমদিকে বেশ লাভজনক ছিল কিন্তু এখন আর তেমন লাভ হয় না। ব্যবসায়ী সুধা রানী পাল বলেন, টালির ব্যবসায় নেমে আমরা অনেক মার খেয়ে গেছি। এই দুই বছর যাবত এ ব্যবসা ছেড়ে দিছি, এখন আমাদের উপায় কি? ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ। অন্য কোনো কাজও করতে পারি না। কারখানায় কাঠের গুড়া সরবরাহকারী আবুল বিশ্বাস জানান, কারখানায় আগে দিনে দুইশ থেকে আড়াইশ বস্তা কাঠের গুড়া দিতাম। এখন ২০-৪০ বস্তা দেই। এদের ব্যবসা আর আগের মত নেই।টালি শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কারখানা মালিক শেখ ইমাদুল ইসলাম জানান, এখানকার টালি ইতালি, আমেরিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও লন্ডনে যাচ্ছে। সরকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে কিন্তু এ ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দিকে খেয়াল করে না। ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, সরকার আমাদের দিকে একটু নজর দিলে আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম। ডেভোলপ হতাম, স্বাবলম্বী হতাম। এখন শ্রমিক, মাটির টাকা বেশি কিন্তু আমাদের জিনিসেরর দাম বাড়েনি। ২০০৩ সালেও যে দাম ২০১৬ সালেও সেই দাম। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের কারখানা থাকবে না, এ শিল্প থাকবে না, নষ্ট হয়ে যাবে।এ শিল্প রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন জানিয়ে সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা ফারুকী নাজনীন জাগো নিউজকে বলেন, `বিসিক থেকে জোরালোভাবে আমরা মন্ত্রণালয়ে লিখবো। এটার ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট যেন রুদ্ধ না হয়ে যায় এবং জেলা পর্যায়ে আমাদের যেটা করণীয় সেটা করবো।এ শিল্প রক্ষা করা গেলে একদিকে সরকার যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে তেমনি এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। সহজ শর্তে সরকারিভাবে ঋণ দেওয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।এসএস/এমএস