নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় তিন পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আদালত আগামী ৮ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে ওই তিন পুলিশের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার এএসআই মাহবুব মল্লিক, এএসআই সিরাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল মনিরুজ্জামান সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাহবুব মল্লিক ও সিরাজুল ইসলাম ঘটনার পরে আসামিদের নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ করেন। অপরদিকে মনিরুজ্জামান ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। পিপি আরো জানান, গতকাল রোববার পর্যন্ত সাতখুন মামলার দুই মামলায় মোট ৯৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে জামাতা বিজয় কুমার পাল ও অপর বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলো ১২৭ জন করে।প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছে।মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এবিএস