দেশজুড়ে

টাঙ্গাইলে চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দী : শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে টাঙ্গাইলের যমুনা, লৌহজং, ধলেশ্বরী ও এলংজানী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা। এতে টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলের বরুহা, খারজানা, চরপাকুল্যা, কাতুলীসহ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের হোসনে আরা হাসান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে মাঠে বানের পানি প্রবেশ করায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বানের পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের বিদ্যালয় পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ প্রসঙ্গে অভিভাবক ফাহিমা বেগম বলেন, প্রায় আধা মাইল পানি ভাইঙ্গা পিছল রাস্তার মধ্যে স্কুলে যাওন লাগবো না। পানি কুমলে হেরপরে যাইবো। অভিভাবক হানিফ মিয়া বলেন, আমার মেয়ে সাঁতার জানে না। তাই এতো ঝুঁকি নিয়া আমি মেয়েকে স্কুলে ক্যামনে পাঠাই? বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমা আক্তার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে একটি মাত্র টয়লেট, তাও আবার পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরাতো মেয়ে মানুষ এর জন্য আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এ ব্যাপারে হোসনে আরা হাসান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ যাবত বিদ্যালয় মাঠে পানি প্রবেশ করায় আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এর ফলে ছাত্রীদের উপস্থিতিও দিন দিন কমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মাননীয় জেলা প্রসাশন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় বিদ্যালয়টি পরিদর্শন ও ছাত্রীদের ত্রাণের ব্যবস্থা করলে হয়তো ছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব হতো। আরিফ উর রহমান টগর/এসএস/পিআর