সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী থেকে দুই নারী ও এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গাজীপুরের শ্রীপুর সদর থানা পুলিশ সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের ম্যানেজার আল আমিন (৩২), ওই দোকানের বিক্রয়কর্মী সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার জাঙ্গাদি গ্রামের মাহবুলের ছেলে নয়ন (২০) এবং দোকান মালিক মনির হোসেনের গাড়ির চালক জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পবাহাটি লোহাপাড়া গ্রামের রফিকুলের ছেলে রবিউল (২২)।যমুনা নদী থেকে উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামের ব্যবসায়ী বাদল মণ্ডলের স্ত্রী নাসরিন (৪০), একই গ্রামের হাদিকুলের স্ত্রী মেহেরুন নেছা (৫৫) ও শিশু জাইমতি (৪)। এদের মধ্যে মেহেরুনের ভাতিজি নাসরিন। জাইমতি নাসরিনের মামাতো বোন।গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জানান, নাসরিন আগের স্বামীকে তালাক না দিয়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার অফিসপাড়ায় আবদুল মান্নানের ছেলে আল আমিনকে গোপনে বিয়ে করেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে জাইমতিকে নিয়ে নাসরিন ও তার ফুফু মেহেরুন নেছা টেংরা গ্রাম থেকে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় আল আমিনের কাছে যান।এ সময় নাসরিনকে আগের স্বামীর সংসার ছেড়ে আসতে বলায় আল আমিনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আল আমিন সহযোগীদের নিয়ে ওই দোকানের মধ্যে প্রথমে নাসরিনকে পরে মেহেরুন নেছা ও জাইমতিকে হত্যা করে মরদেহ দুটি বস্তায় ভরে রাখেন। পরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে দোকান মালিকের কাছ থেকে গাড়ি নেন। সন্ধ্যার পর মরাদেহের বস্তা গাড়িতে উঠিয়ে সিরাগঞ্জের এনায়েতপুর এলাকায় যমুনা নদীতে ফেলে দেন। পরদিন সকালে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী থেকে দুটি বস্তাবন্দি অবস্থায় এক শিশু ও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নাসরিন, মেহেরুন নেছা ও জাইমতি রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য সম্ভাব্য স্থানে খোঁজখবর করে। কোথাও না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলায় যমুনা নদী থেকে এক শিশু ও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহগুলো শনাক্ত করেন।মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/এমএস