শিক্ষক, আবাসন, একাডেমিক ভবন সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে পার্বত্য খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য। ২০০৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ২০১০ সালে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হলেও মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক (সম্মান) পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম। পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু থাকলেও তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে শিক্ষকের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসন সংকট থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের। কলেজ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের চারজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন প্রভাষক, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চারজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন সহকারী অধ্যাপক, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে চারজন শিক্ষকের বিপরীতে দুজন শিক্ষক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে দুজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন প্রভাষক এবং জীববিজ্ঞান বিভাগে দুজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন প্রভাষক কর্মরত। প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর এই কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং বিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি বিএ, বিবিএস, বিএসএস ডিগ্রি কোর্স পড়ানো হয়। কিন্তু শিক্ষক ও একাডেমিক ভবনের সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের অভাবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনেককেই ক্লাস চলাকালীন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ মোট ৪৬টি শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৪ জন। অন্যদিকে তৃতীয় শ্রেণির ১০টি পদের বিপরীতে একমাত্র প্রধান সহকারী কর্মরত থাকলেও বাকি পদগুলো বছরের পর বছর ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে।কলেজের একটি গ্রন্থাগার থাকলেও গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত পাঠ্যবইয়ের অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যাভ্যাস বাড়িয়ে তুলতে পারে। সেক্ষেত্রে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া বিদ্যমান কম্পিউটার ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। শিক্ষক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে পদ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সবুর খান বলেন, শিক্ষক সংকট সমাধান হলেই কলেজে কাঙ্ক্ষিত ও গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিত হবে। আরো একাধিক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর স্নাতক পড়তে চায়। কিন্তু এখানে স্নাতক কোর্স চালু না থাকায় সামর্থের কারণে অনেকে এলাকার বাইরে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার যুগে মানসম্পন্ন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সবুর খান বলেন, বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সৎ, দেশপ্রেমিক এবং সুনাগরিক গড়ে তোলার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ। সম্প্রতি একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী দুর্গম জনপদের। তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিনিয়ত কলেজে আসতে হচ্ছে। এছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সের অনেক শিক্ষার্থীই জেলা সদরের বাইরে থাকে। তাই তাদেরও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসব সমস্যা নিরসন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১০ মার্চ খাগড়াছড়ির কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর হাত ধরে বেসরকারিভাবে খাগড়াছড়ি কলেজ যাত্রা শুরু করে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী আর স্থানীয় শিক্ষকের সমন্বয়ে জেলা সদরের পানখাইয়াপাড়া এলাকায় কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক বছর পর খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক ও খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের পাশে খাগড়াছড়ি কলেজ স্থানান্তরিত হয়। নয় একর জমির ওপর অবস্থিত খাগড়াছড়ি কলেজ ১৯৮০ সালের ১ মার্চ সরকারি কলেজ হিসেবে পথচলা শুরু করে। মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/এবিএস