গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মো. জাকির হোসেনকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মোছা. হাবিবা বেগমকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হাবিবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।সোমবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হাবিবা বেগম মুন্সিগঞ্জের লৌহগঞ্জ থানার শামুরবাড়ি গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান হাওলাদারের মেয়ে।গাজীপুর আদালতের ইন্সপেক্টর মো. রবিউল ইসলাম জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে জাকির হোসেনের সঙ্গে হাবিবার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নুসরাত জাহান সিনথিয়া (১১), হোমাইরা ওরফে ছামিরা (৬) ও মরিয়ম ওরফে সুমাইয়া (৩) নামে তিনজন মেয়ে সন্তান রয়েছে। জাকির হোসেন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে যমুনা স্পিনিং মিলে স্টোর ইনচার্জ হিসেবে চাকরি করতেন এবং মিলের পাশে মোসলেম উদ্দিনের বাড়িতে স্বপরিবারে ভাড়া থাকতেন। সংসারে অভাব অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদ হতো। ২০১৫ সালের ২৭ মে দিবাগত রাত ৯টার দিকে স্ত্রী হাবিবা কৌশলে রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেন। পরদিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে বড় মেয়ে নুসরাত জাহান সিনথিয়ার সামনে অচেতন অবস্থায় স্বামী জাকির হোসেনকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেন।মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজনের কাছে হাবিবা তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম হোসেন খান তদন্ত শেষে গত বছরের ১৭ নভেম্বর হাবিবার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সোমবার দুপুরে এই মামলার রায় আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জিয়ারত হোসেন।মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/এবিএস