দেশজুড়ে

জেএমবি সদস্য সিফাতের বাড়ি বরগুনায়

ঢাকার র‌্যাবের হাতে ‘আত-তামকীন’ সাইটের অ্যাডমিনসহ আটক ছয় জঙ্গির মধ্যে মোস্তাাফিজুর রহমান ওরফে সিফাতের (২৭) বাড়ি বরগুনারা বেতাগীতে। সিফাত বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের এসএম মোশারেফ হোসেনের ছেলে।সিফাতের প্রতিবেশী মো. জাকির হোসেন জানান, বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরির সুবাদে সিফাতের বাবা মো. মোশারেফ হোসেন প্রায় ৩০ বছর ধরে খুলনায় বসবাস করেন। মোশারেফের চার সস্তানের মধ্যে সিফাত সবার বড়। সিফাত বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার বলেও জানান তিনি।তবে কোনো বিষয় নিয়ে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা করেছেন, তা জানাতে পারেননি সিফাতের প্রতিবেশী মো. জাকির হোসেন।তিনি আরো জানান, খুলনায় নিজস্ব বাসা থাকার কারণে সিফাত বা সিফাতের পরিবারের অন্য কোনো সদস্য গত ১০ বছর ধরে বরগুনার বেতাগীতে তাদের গ্রামের বাড়িতে আসেননি।বিষয়টি এখনো অবগত নয় জানিয়ে বেতাগী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সিফাতের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেএমবি ছয় আত্মঘাতী সদস্যকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, আটক ছয় জেএমবি সদস্য আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিল।তিনি বলেন, ‘সারাদেশেই এ জঙ্গি সংগঠনের স্লিপারসেলের বেশ কিছু সদস্য বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নাশকতার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছিলেন। অপেক্ষায় ছিলো শুধু নির্দেশনার। একজন আমির তাদের নির্দেশনা দিতো।মুফতি মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন জঙ্গি হামলার পর ‘আত-তামকীন’ নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মিডিয়াতে নিজেদের আইএস হিসেবে প্রচার করে জেএমবি। জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর ব্যানারে প্রকাশ করার মূল উদ্দেশ্য জঙ্গি হামলাকে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আনা।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আত-তামকীনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন গ্রুপে কাজ করে থাকে সংগঠনটির সদস্যরা। এর মধ্যে একটি গ্রুপ অনুবাদের কাজ করে, একটি ফটোশপের কাজ করে, আরেকটি গ্রুপ ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ এবং অন্যটি প্রচারের কাজ চালায়।মুফতি মাহমুদ খান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছেন তারা মূলত জামাআতুল মুজাহহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এটিবি) সদস্য। কখনও নিজেদের দাওলাতুল ইসলাম বাংলাদেশের সদস্য বলেও দাবি করেন তারা।র‌্যাব জানায়, দাওলাতুল ইসলাম বাংলাদেশের সদস্যরা এ পর্যন্ত ১১টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা রয়েছে।’আটক অন্যরা হলেন- জাহিদ হাসান ওরফে মাইন (২১), মো. নয়ন হোসেন (২১), জাহিদ আনোয়ার ওরফে পরাগ (২২), মো. জিয়াবুল হক (২৪) এবং মো. তাজুল ইসলাম ওরফে তাজুল (২৯)।সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এসএস/আরআইপি