টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পানিতে নষ্ট হয়েছে জেলার প্রায় ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। ভেসে গেছে রোপা আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। ফলে দিশেহারা এখন এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ বন্যার শিকার হয়েছেন। একদিকে তারা পানিবন্দি অবস্থায় অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন অন্যদিকে ফসলি জমির বীজতলা ও সবজি ক্ষেত পানিতে ভেসে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। লোকসান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দ্রুত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।কৃষকদের অভিযোগ, আমনের বীজতলা ও ফসলি জমি নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি সহযোগিতা পাননি এ অঞ্চলের কৃষকরা। এ ক্ষতির লোকসান মেটাতে হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা এবং সুদমুক্ত কৃষি ঋণের দাবি জানিয়েছেন তারা।এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামের সবজি কৃষক কবির জানান, ৪শ শতাংশ জমিতে রোপনকৃত সবজি বাগান বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে তিনি এখন সর্বশান্ত। এই জমিতে তিনি বেগুন, থুমবা, লাউ, ডাটা, গ্রীষ্মকালীন শিম, লাল শাক ও কচু শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের আবাদ করেছিলেন। এর জন্য তিনি স্থানীয় এনজিও সংস্থা সেতু থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণও গ্রহণ করেন। এখন ক্ষতি ও ঋণ পরিশোধের ভাবনায় তিনি পাগলপ্রায়। সরকারি সহযোগিতা আর সুদমুক্ত ঋণ ব্যতীত তার ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব বলেও জানান তিনি।টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি ইউনিয়নের কৃষক বরকত জানান, বন্যার পানিতে তার রোপা আমনের সম্পূর্ণ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে তার ধান চাষ। ধানের আবাদ করতে না পারলে তিনি চরম বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। এই ক্ষতি থেকে উত্তরণে তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল হাশিম জেলার ১০টি উপজেলার কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেন। কৃষকের লোকসান পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় কৃষি প্রণোদনাসহ নানা রকমের সরকারি সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন তিনি।আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি