মহান মুক্তিযদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফুল মিয়ার (৭৫) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একই উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আউয়াল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা-ধর্ষণসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক সুলতান সোহাগ মামলাটি আমলে নিয়ে বিকেলে এ সংক্রান্ত আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তানভীর হোসেন জানান, বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। মামলার বিষয়ে বিকেলে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিচারক।মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অভিযুক্ত মো. ফুল মিয়া পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন এবং রাজাকার কমাণ্ডার হিসেবে তার নেতৃত্বে তিতাস নদী ও বুড়ী নদীতে ডাকাতি সংগঠিত হয়। শরণার্থীরা ভারতে যাওয়ার সময় তিনি তাদের মারধর করে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।১৯৭১ সালের ১৬ই মে রাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দিন ভারতে যাওয়ার পথে বুড়ী নদীর কনিকারা মোড়ে রাজাকার কমান্ডার মো. ফুল মিয়ার নেতৃত্বে তার ছেলে-মেয়েকে আটক করে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে দেন। নবীনগর উপজেলার জল্লা গ্রামের শীতল মাঝি তাদেরকে দেখতে পেয়ে শ্রীরামপুর গ্রামের লোকজনদের খবর দেন। পরে শ্রীরামপুর গ্রামের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে ত্রিপুরার আগরতলা কংগ্রেস ভবনে পৌঁছে দেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর রাজাকার কমান্ডার ফুল মিয়া পাক হানাদার বাহিনীকে নিয়ে শ্রীরামপুর গ্রামে নির্মমভাবে গণহত্যা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং শতাধিক ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরদিন ১২ নভেম্বর ফুল মিয়া নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ বাজারে ব্যাপক লুটতরাজ করে বাজারের সমস্ত দোকানে অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর ১৪ ডিসেম্বর রাজাকার কমান্ডার ফুল মিয়া নবীনগর উপজেলার সাহেবনগর গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকাদ্দুছ মিয়াকে ধরে এনে নবীনগর গার্লস হাইস্কুলের সামনে প্রকাশ্যে পাক হানাদার বাহিনীর সহায়তায় বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসেন্দুর গ্রামে ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নবীনগরে আসেন। এসময় তারা বুড়ী নদীর লঞ্চঘাটে গোসল করতে গেলে রাজাকার কমান্ডার ফুল মিয়া তাদের দেখতে পেয়ে লোকজন নিয়ে তাদেরকে চোঁখ বেঁধে বগডহর গ্রামে নিয়ে যান এবং পিচ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল করিমসহ কয়েকজনের নির্দেশে ওই মুক্তিযোদ্ধাদের খুন করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বুড়ী নদীতে ফেলে দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস