দেশজুড়ে

নানিয়ারচরে সেনা-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ : আটক ১৪

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচরে সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সেনা সদস্যসহ সন্ত্রাসীদের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করেছে সেনা সদস্যরা।শুক্রবার ভোরে উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাগড়াছড়ির মহালছড়ির উপজেলা সীমান্তবর্তী মুবাছড়ি ও জ্ঞানছড়া নামক দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সাবেক্ষং মধ্যমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা ও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ঘটনায় দুই সেনা সদস্য এবং তিন সন্ত্রাসী আহত হন। আহত সেনা সদস্যদের সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাদের কারো নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক সেনা তল্লাশি চালানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউপি মেম্বারসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার বৃষকেতু চাকমা (৪০), গ্রামপ্রধান পূর্ণ চন্দ্র চাকমা (৬০), গেন্দিয়ং করল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এডিশন চাকমা (১৬), হিরণ কুমার চাকমার ছেলে স্বপন চাকমা (৩২), কমলা লোচন চাকমার ছেলে পরেশ চাকমা (২৯), বক্র সেন চাকমার ছেলে তুঙ্গা চাকমা (২২), হিরণ কুমার চাকমার ছেলে নয়ন জীবন চাকমা (৪২), প্রফুল্ল চাকমার ছেলে বেন্দ চাকমা (৩৫), শরৎচন্দ্র চাকমার ছেলে নিতু চাকমা (৪১), সিংহ চাকমার ছেলে চরণ চাকমা (২৬), কৃঞ্চ চাকমার ছেলে মণি চাকমা (৩৫), অমল বিকাশ চাকমার ছেলে রূপেন্টু চাকমা (২২), পূর্ণ বসু চাকমা (২৬) ও সুরতি বিকাশ চাকমার ছেলে ওয়াসিম চাকমা (২২)। বিকাল পর্যন্ত আটকদের ছেড়ে না দেয়ায় এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউপিডিএফের রাঙ্গামাটি জেলা ইউনিট সংগঠক সচল চাকমা। বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করেছেন। এর আগে ওই এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে অভিযানে নামে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা। পরে সন্ত্রাসীদের ধরতে এলাকাটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। এ সময় সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি ছুড়ে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা জঙ্গলে পালাতে সক্ষম হলেও গুলিতে আহত হয় অন্তত তিন সন্ত্রাসী। অপরপক্ষে সেনাবাহিনীরও দুই সদস্য আহত হন বলে জানা যায়। তবে তাদের নাম জানা যায়নি। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা শোনা গেলেও তা অস্বীকার করে সংগঠনটির পক্ষে দাবি করে বলা হয়, কোনো ধরনের বন্দুকযুদ্ধে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর। সাবেক্ষং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুশীল জীবন চাকমা সুপন জানান, ঘটনাটিকে ঘিরে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইউপি মেম্বার ও গ্রামপ্রধানসহ বেশকিছু গ্রামবাসীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মহালছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেমায়েত কবির চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনী ও সংস্কারপন্থী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর শুনেছি। এলাকাটি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর থানায় অন্তর্ভুক্ত।নানিয়ারচর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান বলেন, ঘটনাস্থলটি মহালছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলার সীমান্তবর্তী মুবাছড়ি এলাকা। সেখানে সেনাবাহিনী ও একদল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে তাদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/পিআর