শহরের প্রায় হাজার পরিবারের যাতায়াত সুবিধা ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে রাঙামাটির আসামবস্তি-ব্রাহ্মণপাড়া সেতুটির নির্মাণ কাজ তিন বছর পর শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষায় রয়েছে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের। ২০১৩ সনের ২৩ ফেব্রুয়ারি সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শহরের আসামবস্তি এবং ব্রাহ্মণটিলাকে মূল সড়কে সংযুক্ত করতে কাপ্তাই লেকের ওপর দিয়ে ২১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৯ কোটি টাকা। নির্মাণকারী সংস্থা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।সূত্র জানায়, ওই সেতুটি নির্মাণের ফলে রাঙামাটি শহরের ব্রাহ্মণপাড়া, নোয়াপাড়াসহ আশেপাশের কয়েকটি পাড়া ও মহল্লার প্রায় ১ হাজার পরিবারের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি সেতুটি শহরের তবলছড়ি-আসামবস্তি-রাঙ্গপানি-ভেদভেদী মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন এসেছে। আগে ওইসব এলাকার লোকজন অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া, স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বসবাসকারী লোকজনের যাতায়াত ছিল খুবই কষ্টকর। সেতুটি নির্মাণের কারণে ওইসব কষ্টের অবসান ঘটেছে এলাকাবাসীর।এলাকার লোকজন জানান, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে মূল রাঙামাটি শহর পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আশপাশের টিলায় আশ্রয় নিয়ে বসত শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। কিন্তু তারা পৌর এলাকার নাগরিক হলেও মূল শহর থেকে ছিল বিচ্ছিন্ন। এসব বিচ্ছিন্ন মানুষকে মূল শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এতে রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় কাপ্তাই লেকের ওপর নির্মাণ করা হয় ওই সেতু। এর ফলে মূল শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে হাজার পরিবার মানুষের। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল শাখা জানায়, প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর পরই শুরু করা হয় সেতুটির নির্মাণ কাজ। শেষ করার টার্গেট ছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু দ্রুত কাজ করার কারণে তার দুই বছর আগেই নির্মাণ শেষ হয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা থেকেই তিন পার্বত্য জেলার যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। রাঙামাটি সদর উপজেলার জনগণ কাপ্তাই বাঁধের কারণে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছেন। আমরা চেষ্টা করছি বিচ্ছিন্ন টিলা ও দ্বীপগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। তাই এতদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা আসামবস্তি থেকে ব্রাহ্মণপাড়ার সংযোগে ওই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এখন সেতুটি হওয়ায় সেসব এলাকার প্রায় হাজার পরিবারের মানুষ মূল শহরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।এফএ/আরআইপি